জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) দিবস তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের লক্ষ্যে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে তাঁর সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আমাদের প্রাণের উৎসব। এই উৎসবকে সফল ও সার্থক করে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সকলের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনকে আন্তরিকতা ও উৎসাহের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
উপাচার্য বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের জন্য খুব দ্রুত বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হবে। গঠিত উপকমিটিগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় বাজেট প্রণয়ন ও দাখিল করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও স্মরণীয় করে তুলতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সার্বিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও নিজেদের সক্ষমতা ও সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ পরিসরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের উদ্যোগ নিতে হবে।’ তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সফল করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় আগামী ২ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানসূচি প্রণয়ন, বিভিন্ন উপকমিটি গঠন, অনুষ্ঠান আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে সদস্যবৃন্দ তাঁদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহকে তুলে ধরে একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ও সাফল্য নিয়ে একটি বুকলেট প্রকাশের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যাম্পাসকে নান্দনিকভাবে সাজানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা এবং অনুষ্ঠানকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সদস্যবৃন্দ তাঁদের মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন। এসব মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে আগামী ২ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানকে সুশৃঙ্খল, অংশগ্রহণমূলক ও অর্থবহ করার লক্ষ্যে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটসমূহের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়কবৃন্দ, রোভার স্কাউটের গ্রুপ সম্পাদক, বিএনসিসি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক ও রেঞ্জার ইউনিটের রেঞ্জার গাইডার, প্রধান প্রকৌশলী, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)-এর নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনসমূহের সভাপতি/আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিববৃন্দ এবং কর্মচারী সমিতি ও সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




