জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের সাবেক ডিন প্রয়াত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের রূহের মাগফিরাত কামনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আয়োজনে দু’আ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এ দু’আ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দু’আর পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, এই পৃথিবীতে যত ধরনের প্রাণী রয়েছে, প্রত্যেকের মৃত্যুই অবধারিত। আমাদের প্রত্যেককেও একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। তিনি তাঁর মেধা, শ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। আমাদের প্রত্যেকের উচিত তাঁর জন্য দোয়া করা, যাতে মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করে দেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের মৃত্যু থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। বাস্তবিক জীবনে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং পরপারে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাবদিহিতার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়াও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী বক্তব্য প্রদান করেন। সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।
এ সময় বক্তারা প্রয়াত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কর্মময় জীবন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় তাঁর অবদান এবং শিক্ষক হিসেবে তাঁর ভূমিকা স্মরণ করেন। তাঁরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি ও রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম-কাম-খতিব মোঃ ছালাহ্ উদ্দিনের পরিচালনায় বিশেষ দু’আ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে প্রয়াত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর সকল গুনাহ ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এ শোক সহ্য করার শক্তি দান করার জন্য প্রার্থনা করা হয়।
দু’আ মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন মসজিদের নারীদের নামাজের নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জকসু নেতৃবৃন্দ, ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




