জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন–২০২৫ উপলক্ষ্যে জকসু নির্বাচন-২০২৫-এর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) শহিদ সাজিদ ভবনের ৭১২ নম্বর কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান।
নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সভায় জবি উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ রেজাউল করিম, পিএইচডি উপস্থিত ছিলেন। এসময় তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সুষ্ঠুভাবে জকসু নির্বাচন সম্পন্ন করা গেলে তা একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় জকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনের আহ্বান জানান। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে এই বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে এবং এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো একটি ঐতিহাসিক ও স্থিতিশীল জকসু প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতেমা কাকলী, অধ্যাপক ড. জুলফিকার মাহমুদ ও ড. মোঃ আনিসুর রহমান। এ ছাড়া প্রক্টরের দায়িত্বে নিয়োজিত সহকারী প্রক্টর মো. মাহাদি হাসান জুয়েল সভায় অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ পর্যালোচনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
সভায় আসন্ন জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পদ্ধতি এবং সার্বিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁরা জানান, জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ৩৯টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে; এর মধ্যে জকসুর জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য ১টি কেন্দ্র থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একাধিক বুথ থাকবে এবং প্রতিটি বুথে ১০০ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট গ্রহণ সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হবে।
সভায় ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি, পদ্ধতি ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। এ সময় নমুনা ব্যালট পেপার ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স প্রদর্শন করা হয়। জানানো হয়, জকসু নির্বাচনে ব্যালট পেপার তিনটি পৃথক পৃষ্ঠায় থাকবে এবং তিনটি আলাদা ব্যালট বাক্সে তা প্রদান করতে হবে। অপরদিকে, হল সংসদ নির্বাচনে এক পৃষ্ঠার ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হবে এবং একটি ব্যালট বাক্সে ভোট প্রদান করা হবে। পোলিং এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে প্যানেলভিত্তিক এজেন্ট নিয়োগ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমন্বয়ের মাধ্যমে এজেন্ট নিয়োগ করলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে মত প্রকাশ করা হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগকে পৃথক ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগের কেন্দ্রে ভোট প্রদান করবেন এবং প্রতিটি কেন্দ্রে আলাদাভাবে ডিজিটালি ভোট গণনা সম্পন্ন হবে। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও শালীন পরিবেশে ভোট প্রদানের সুবিধার্থে প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নারী শিক্ষক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটার তালিকায় শিক্ষার্থীদের নামের পাশে সংযুক্ত কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ভোটার আইডি পাওয়া যাবে; ফলে যাদের আইডি কার্ড নেই তারাও এই ব্যবস্থায় ভোট দিতে পারবেন।
নির্বাচন চলাকালে কোনো প্রার্থী ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটের দিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নিরাপদ রাখা হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভোট কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলেও সভায় জানানো হয়।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান জকসু ও হল সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত মনোযোগসহকারে শোনেন। কমিশনারবৃন্দ তাঁদের প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ভোট প্রদান পদ্ধতিসহ অন্যান্য কার্যক্রম শিগগিরই ভিডিও ও ছবি আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের জকসু ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা
