logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উদ্‌যাপন উপলক্ষে সভা অনুষ্ঠিত

  • Published
  • 01 Apr, 2026
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উদ্‌যাপন উপলক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীনের সভাপতিত্বে তাঁর সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, জকসু, ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠন এবং কর্মচারী সমিতির নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তাঁরা তাদের বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেন। সভায় আসন্ন পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং অংশগ্রহণকারীদের মতামত গ্রহণ করা হয়।
বক্তারা পহেলা বৈশাখের সকল আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বৈশাখী র্যায়লিতে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য তুলে ধরার বিষয়ে মতামত প্রদান করা হয়। পাশাপাশি পুরান ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এই আয়োজনে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা আয়োজনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এছাড়া কনসার্ট, বাউল ও লোকজ সংগীত পরিবেশনা, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বইমেলার আয়োজন, পহেলা বৈশাখের দিন মসজিদে দেশের কল্যাণে দোয়া এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনার ব্যবস্থা করার কথাও উল্লেখ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আয়োজন সফল করতে স্পন্সরশিপ সংগ্রহের বিষয়েও আলোচনা হয়। নৌকাবাইচসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও সভায় উত্থাপিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে ‘টিম জগন্নাথ’ হিসেবে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সকল জাতীয় দিবস, রাষ্ট্রীয় দিবস, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস এবং পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপনে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের উৎসব সবার অংশগ্রহণে উদ্‌যাপন করা গেলে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও জানান, এবারের পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপনে সকলের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি পহেলা বৈশাখের দিন বাদ যোহর দেশের কল্যাণে দোয়া এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনার আয়োজন করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপাচার্য মহোদয় তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোনোভাবেই অবৈধ বাসস্ট্যান্ড গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যত্রতত্র বাস চলাচল কিংবা মাদক সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকাণ্ড যেন পুনরায় গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার বলেন, বিভিন্ন স্পন্সরশিপের মাধ্যমে আয়োজনগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে তা আরও সহজ হবে। একাডেমিক কার্যক্রমের ওপর প্রভাব কম থাকলে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি আশপাশের কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করা গেলে উৎসব আরও সফল ও প্রাণবন্ত হবে।
বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাঃ আলী নূর বলেন, এ ধরনের উৎসবে পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য ও আয়োজনের গাম্ভীর্য বৃদ্ধি করবে।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে তাদের মতামত ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।