logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

জবিতে রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবের ‘নজরুল পর্ব’ অনুষ্ঠিত

  • Published
  • 28 Jun, 2026
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সংগীত বিভাগের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান ‘নজরুল পর্ব’ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবের দ্বিতীয় দিনের আয়োজন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনের নানা দিক তুলে ধরার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ববি হাজ্জাজ বলেন, নাটক, সিনেমা, আবৃত্তি কিংবা সংস্কৃতির যেকোনো শাখার মূল উৎস হচ্ছে সংগীত। শত শত বছর ধরে এ অঞ্চলের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক চর্চার সঙ্গে সংগীত নিবিড়ভাবে জড়িত। রামায়ণ, গীতা থেকে শুরু করে নানা ঐতিহ্যবাহী রচনায় গীতিময়তার উপস্থিতি ছিল এবং সেগুলো সংগীতেরই অংশ। তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুশীলন ও ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়েও সংগীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামের বহু আলেম সুরেলা কণ্ঠে ধর্মীয় বাণী পরিবেশনের মাধ্যমে সংগীতের আবেদনকে সমৃদ্ধ করেছেন। বাংলা সংস্কৃতির দুই মহান দিকপাল কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের সৃষ্টি ও দর্শন বাংলা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে সংগীতকে কোনো নির্দিষ্ট পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়; বরং তা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে।
সংগীত শিক্ষার প্রসারে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সংগীত শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর ফলে সংগীত বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে। তিনি বলেন, সংগীত মানুষের অনুভূতি, চিন্তা ও সৃজনশীলতার বহুমাত্রিক প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এবং জবি ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অণিমা রায়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, বাঙালির চিন্তা-চেতনা, মনন ও সাংস্কৃতিক বিকাশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। তাঁরা নিজ নিজ কর্ম ও সৃষ্টির মাধ্যমে স্বতন্ত্র উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। বাঙালির জীবনচলার পথে এই দুই মহাকবি সমানভাবে অনুপ্রেরণা ও চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
জবি ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, বাংলা সাহিত্যের দুই মহান দিকপালকে কেন্দ্র করে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ উৎসব সত্যিই প্রশংসনীয় ও মনোমুগ্ধকর। তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের ভাষা ও শব্দচয়ন অনেক ক্ষেত্রে জটিল হলেও তিনি তাঁর অত্যন্ত প্রিয় কবি। নজরুল ছিলেন সাম্যবাদী, মানবতাবাদী এবং সময়সচেতন কবি। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন শুধু তাঁর সময়েই নয়, বর্তমান সমাজেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি আরও বলেন, সমাজে এখনও বৈষম্য ও বঞ্চনার নানা রূপ বিদ্যমান। নজরুলের সাম্য ও মানবতার দর্শন ধারণ করতে পেরেছিল বলেই নতুন প্রজন্ম বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি তরুণদের নিজস্ব জাতিসত্তা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির শিকড় অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আলী এফ এম রেজোয়ান এবং সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক মোঃ মাহমুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে দেশের প্রখ্যাত নজরুলসংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরা, ইয়াকুব আলী খান, ইয়াসমিন মুশতারী এবং টিটু মুন্সি সংগীত পরিবেশন করেন।
এছাড়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। শান্তা-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি-এর নৃত্যকলা বিভাগ কাজী নজরুল ইসলামের ‘লেটো পালা’ পরিবেশন করে। পাশাপাশি ধৃতি নর্তনালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনাও অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবের সমাপনী আয়োজন সম্পন্ন হয়।