logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

জবিতে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

  • Published
  • 13 Nov, 2025
আজ বুধবার (১২ নভেম্বর ২০২৫) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইন্টারডিসিপ্লিনারি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কনসোর্টিয়াম (আইআরডিসি)-এর উদ্যোগে ‘ফুড সিকিউরিটি: সাসটেনেবল স্ট্রাটেজিস টু মিটিগেট দ্যা চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক এক একাডেমিক সেমিনার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান। তিনি খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, খাদ্যের অপচয় রোধ, এবং সুষম বন্টন নিশ্চিতকরণে টেকসই কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তৃতায় তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা কেবল খাদ্যের প্রাপ্যতা নয়, বরং এর গ্রহণযোগ্যতা, ব্যবহারযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের খাদ্য ঘাটতি তুলনামূলকভাবে কমে আসলেও নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিতকরণে এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, দারিদ্র্য এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের মূল কারণ। তাঁর মতে, খাদ্য ঘাটতি এখন শুধু জৈবিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও নৈতিক ইস্যু। তিনি কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়ন ও কার্যকর সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার আহ্বান জানান।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, বিশ্ব আজও ক্ষুধামুক্ত হতে পারেনি। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো, যারা মানুষের কল্যাণে কাজ করার দায়িত্বে নিয়োজিত, অনেক ক্ষেত্রেই তারাই ভিন্নতর স্বার্থে রক্ষকের পরিবর্তে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন। এই বৈষম্য ও স্বার্থান্ধ মানসিকতা মানবতার মূল আদর্শকে ব্যাহত করছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হচ্ছে, খাদ্য শুধু নিজের প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের অনাহারী ও অভুক্ত মানুষদের প্রতিও দৃষ্টি দেওয়া। সমাজে যারা অনাহারে আছে, তাদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্যানেল আলোচনায় উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী দেশের বিভিন্ন সময়কালের খাদ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উল্লেখ করেন, দুর্ভিক্ষ ও খাদ্য সংকটের প্রধান কারণ শুধু উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা নয়, বরং খাদ্যের অপ্রতুল বন্টন এবং ন্যায়সংগত প্রাপ্তির অভাব। বাংলাদেশে অতীতে সংঘটিত বেশ কয়েকটি দুর্ভিক্ষের মূল কারণ ছিল খাদ্যের সুষম বন্টনের অভাব। আমাদের প্রত্যেককে কৃষিকে গুরুত্ব দিতে হবে, কারণ একটি টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দেশের প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের কাছে খাদ্যের সুষম বন্টন নিশ্চিত করতে পারলেই প্রকৃত অর্থে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জিত হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইআরডিসি’র সভাপতি ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। এছাড়াও ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও আইআরডিসি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক।
অনুষ্ঠানের শেষে আইআরডিসি আয়োজিত সিরাত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।