জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নবগঠিত উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যকরী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান শনিবার (৯ মে ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের আয়োজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। তিনি উল্লেখ করেন, জাগতিক উন্নয়ন ও সভ্যতার মূল ভিত্তি পদার্থবিজ্ঞান। মানবসভ্যতার প্রতিটি উন্নয়ন—শব্দের ব্যবহার, আলোর প্রয়োগ, মহাকাশ গবেষণা, চাঁদে অভিযান, জ্বালানি সমৃদ্ধি—সব ক্ষেত্রেই পদার্থবিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম। পদার্থবিজ্ঞানের অগ্রগতি ছাড়া মানবসভ্যতা আজকের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারত না; বরং আদিম যুগেই সীমাবদ্ধ থাকত।
উপাচার্য মহোদয় আরও বলেন, বিশ্বে অধিকাংশ নোবেলজয়ীদের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞানীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এই বিষয়ের গুরুত্ব ও যৌক্তিকতাকেই প্রতিফলিত করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও গবেষণার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবে।
তিনি অ্যালামনাই সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের অর্জন, অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প তুলে ধরতে হবে, যাতে তারা অনুপ্রাণিত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের মূল উদ্দেশ্যই হলো প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও শ্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা। এ সময় তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সকল অ্যালামনাই সদস্যের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. মোঃ নজরুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. পরিমল বালা, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন কুমার দাস এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ড. মোঃ মুরাদ আহমেদ।
অনুষ্ঠানের মাঝে বিভিন্ন অ্যালামনাই সদস্য তাঁদের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন।
সামগ্রিকভাবে অভিষেক অনুষ্ঠানটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন সেশনের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


