জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে প্রণীত ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালা-২০২৬’ এর আলোকে ‘যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ’ বিষয়ক সচেতনতামূলক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১১ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিস কনফারেন্স রুমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের পরিচালনা কমিটির আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের বিষয়ে কর্মশালার আয়োজন অত্যন্ত জরুরি। এবারই প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। একটি কাঙ্ক্ষিত ও নিরাপদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে হলে প্রথমেই আমাদের নিজেদের কমিটমেন্ট নিশ্চিত করতে হবে এবং সচেতন হতে হবে। আমরা যদি নিজেরা সচেতন থাকি এবং আমাদের চোখের সামনে কোনো ধরনের যৌন নিপীড়ন ঘটতে না দিই, তবে আজ থেকেই এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়ন সম্ভব। সবাইকে এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে আমাদের ক্যাম্পাস যৌন নিপীড়নমুক্ত একটি নিরাপদ ক্যাম্পাসে পরিণত হয়।
উপাচার্য মহোদয় এ বিষয়ে একটি ধারাবাহিক কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিটি বিভাগে একাডেমিক কমিটির সভার মাধ্যমে শিক্ষক ও সহকর্মীদের সচেতন করতে হবে। ছাত্র উপদেষ্টাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে, যাতে তারা প্রতিটি সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন করে। পরে ছাত্র উপদেষ্টারা চেয়ারম্যানকে ফিডব্যাক প্রদান করবেন এবং প্রতি মাসের শেষে বিভাগীয় চেয়ারম্যানরা বিষয়টি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ডিনের কাছে রিপোর্ট জমা দেবেন। ডিনদের প্রতিবেদন প্রতি দুই মাস অন্তর কমিটির মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।
কর্মশালায় ‘উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা’ শীর্ষক বক্তব্য উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে কমিটির সদস্য ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারজানা আহমেদ। তিনি যৌন হয়রানি প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালা-২০২৬’-এর মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এ সময় তিনি নীতিমালার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম, ভুক্তভোগীদের কাউন্সেলিং সহায়তা, অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমিটির বহিঃসদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট শামীমা সুলতানা দীপ্তি। তিনি বলেন, যৌন হয়রানির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের আগে যথাযথ প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগ জানানো জরুরি। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা প্রথমেই নিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও ছাত্র উপদেষ্টাদের সহায়তা নেবে এবং অভিযোগ জমা দেবে। পরবর্তীতে কমিটির মাধ্যমে তারা প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা পাবে এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সবিনা শরমীন বলেন, এ ধরনের কর্মশালা যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে কার্যকর সমাধানের পথ দেখাবে। আমাদের দেশে এ ধরনের অনেক ঘটনা সামাজিক লজ্জা ও অপমানের ভয়ে প্রকাশ পায় না। তাই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. পারভীন আক্তার জেমীর সভাপতিত্বে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম।
কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সদস্য ও বহিঃসদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধবিষয়ক সচেতনতামূলক পোস্টার ও পেস্টুন স্থাপন করা হয়।

