জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতির আয়োজনে সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে ‘বেগম খালেদা জিয়া: জাতীয় আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ রেজাউল করিম, পিএইচডি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সেই গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব ঐতিহাসিক। তিনি বলেন, জোর করে মানুষের মনে স্থান করে নেওয়া যায় না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেই একজন নেতা চিরস্মরণীয় হন। বেগম খালেদা জিয়া জনগণের হৃদয়ে স্বাভাবিকভাবেই স্থান করে নিয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তাঁকে আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে এবং ভবিষ্যতে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে একাডেমিক গবেষণা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ‘বেগম খালেদা জিয়া: জাতীয় আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক মুহাম্মদ শামসুল আরেফীন। প্রবন্ধে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সংস্কার, সামাজিক নীতিনির্ধারণ এবং নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিদান দেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর নেতৃত্বে রাজস্ব ব্যবস্থায় ভ্যাট চালু, অর্থনৈতিক সংস্কার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, নারী শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং যৌতুক ও এসিড সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। প্রবন্ধে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
স্মরণসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ নুরুল ইসলাম, পিএইচডি। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন সৎ, দেশপ্রেমিক ও ধৈর্যশীল রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল ত্যাগ ও সংগ্রামে পরিপূর্ণ। পরিবেশ নীতি প্রণয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত উদ্যোগসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি তাঁর অবিচল অবস্থান জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন শিক্ষক সমিতির সদস্য অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলেই আজ এখানকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ধারণ ও লালন করতে পারছেন। তাঁর ঐতিহাসিক উদ্যোগের ফলেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থী তাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, একটি জাতি হিসেবে টিকে থাকতে হলে আমাদের অবশ্যই কোনো না কোনো স্থানে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করতে হয়। সেই আস্থার একমাত্র প্রতীক ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি শুধু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নন; বরং এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছে তিনি একজন মায়ের সমতুল্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশকে স্থিতিশীল ও সুদৃঢ় করতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার সেই আস্থা, সাহস ও নির্ভরতার প্রতিচ্ছবি আমাদের সকলের চরিত্রে ধারণ করতে হবে। তাহলেই একটি দায়িত্বশীল ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও অপপ্রচারের মাঝেও নতুন প্রজন্ম বেগম খালেদা জিয়ার প্রকৃত অবদান ও নেতৃত্বকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করছে, যা আশাব্যঞ্জক। তিনি নির্মোহ ও প্রামাণ্য গবেষণার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ-উল আজম সওদাগর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি মোঃ রিয়াজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ উপলক্ষ্যে শহীদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় দিনব্যাপী স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যেখানে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ের আলোকচিত্র প্রদর্শিত হয়। এছাড়া বাদ জোহর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।
