logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখল হলসমূহ পুনরুদ্ধারে করণীয় নির্ধারণে সভা অনুষ্ঠিত

  • Published
  • 20 Apr, 2026

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর বেদখল হওয়া হলসমূহ ও হলের জমি পুনরুদ্ধারে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীনের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, কলেজ আমলে জগন্নাথের নিজস্ব প্রায় ১২টি আবাসিক হল থাকলেও পরবর্তীতে অধিকাংশই বেদখল হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর থেকে এসব হল পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে নানা আন্দোলন ও উদ্যোগ নেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে তা দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে ছিল। বর্তমান প্রশাসন ‘টিম জগন্নাথ’ হিসেবে সকলকে সঙ্গে নিয়ে আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হল পুনরুদ্ধারে নতুনভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ), পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), পরিচালক (পওউ), প্রধান প্রকৌশলী, এস্টেট শাখার কর্মকর্তা, পূর্বে গঠিত হল উদ্ধার কমিটির সদস্যবৃন্দ, জকসু নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টাররা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় এস্টেট শাখার কর্মকর্তারা হলগুলোর বর্তমান অবস্থা, দখল পরিস্থিতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে থাকা হলের সংখ্যা, দখলদারদের পরিচয় এবং চলমান মামলাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি উপস্থাপন করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে হল উদ্ধার কমিটির সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, জকসু ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বেদখল হল পুনরুদ্ধারে নানা প্রস্তাব তুলে ধরেন। তারা সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তিকে নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। এছাড়া হলগুলোর জমির প্রয়োজনীয় নথি (পেন্টাগ্রাফ) সংগ্রহ, সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন প্রণয়ন এবং প্রতিটি হল কোন প্রক্রিয়ায় পুনরুদ্ধার করা হবে তা নির্ধারণের সুপারিশ করেন। উপাচার্যের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তাঁরা এ বিষয়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সমঝোতা এড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন এবং সরকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতা পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, উপস্থিত সকলের মূল্যবান প্রস্তাব ও মতামতের ভিত্তিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখল হলসমূহ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম নতুন আঙ্গিকে ও নব উদ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে সমন্বয় ও কার্যগত গতি সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, আলোচনার ভিত্তিতে দ্রুত একটি কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য আজই একটি সংক্ষিপ্ত কমিটি গঠন করা হবে। তিনি আরও বলেন, হল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে যেসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত সংগ্রহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব নথিপত্রের ভিত্তিতে একটি সুসংগঠিত ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে, যার মাধ্যমে ধাপে ধাপে হলসমূহ পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

উপাচার্য মহোদয় উল্লেখ করেন, একটি বৃহৎ কমিটিও গঠন করা হবে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্তরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সর্বজনীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। তিনি জানান, এ সপ্তাহের শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, এই সময়ের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে সে অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, এ সংক্রান্ত কোনো বিষয় যাতে কারও মধ্যে বিভ্রান্তি বা সংশয়ের সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পরিশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে এ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, সামাজিক, আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারলে হল পুনরুদ্ধারে সফলতা আসবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন, শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা, জকসু প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।