বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের উদ্যোগে মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) র্যালি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। অনুষ্ঠানে তিনি পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জলবায়ু সংকট নিরসনে মানুষের মানসিকতা ও আচরণগত পরিবর্তন অপরিহার্য। পরিবেশ সংরক্ষণের শিক্ষা পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে এবং নতুন প্রজন্মকে ছোটবেলা থেকেই পরিবেশবান্ধব জীবনধারায় অভ্যস্ত করে তুলতে হবে।
উপাচার্য বলেন, মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে বর্তমানে গাছপালা, পাহাড়-পর্বত ও প্রাণবৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি উপস্থিত সকলকে পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পরিবেশবান্ধব আচরণ চর্চার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত পরিসরের কংক্রিটনির্ভর ক্যাম্পাসেও বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মঞ্জুরুল হাসান। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ও স্থানীয় প্রভাব, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মল্লিক আকরাম হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল আলীম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, সামাজিক ও ভৌত পরিবেশ রক্ষায় সকলকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সেমিনারের একপর্যায়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন মির্জা মোঃ মুন।
এছাড়া শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় গ্রুপ-‘এ’ (প্রথম থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি) বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী রাহাত হোসেন। গ্রুপ-‘বি’ (তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি) বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিজান হোসেন।
এছাড়াও সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ববনের পশ্চিম পাশে উপাচার্য ও ট্রেজারার দুটি বৃক্ষ রোপন করেন। পরে সচেতনতামূলক একটি র্যালি পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশবান্ধব চিন্তা ও দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
