জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের নির্মাণাধীন বাণী ভবন ও হাবিবুর রহমান হল পরিদর্শনে ইউজিসি প্রতিনিধি দল, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চলমান কাজ সম্পন্নের ওপর গুরুত্বারোপ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপন: ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন বাণী ভবন ও ড. হাবিবুর রহমান ভবনের নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল হল দুইটির নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন।
প্রতিনিধি দলে ইউজিসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া, অতিরিক্ত পরিচালক শাহ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, উপ-পরিচালক রোকসানা লায়লা এবং সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন নির্মাণকাজ, ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রম এবং অবকাঠামোগত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া কার্যক্রম, চলমান কাজ এবং প্রকল্পের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্নের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, প্রকল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, তবে এখনো বেশ কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তিনি জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে চলমান কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি মাসে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ারর পরই প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি আরও স্পষ্ট হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতায় আগামী তিন বছরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হলসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়িত হয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও আবাসন সুবিধার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যেহেতু প্রকল্পটির বাস্তবায়নে কাজ করছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয় ও সেনাবাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের চলমান কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্যপত্র যথাসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির অগ্রগতি সরকার ও ইউজিসি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকল্প কর্মকর্তা (পিও) মেজর খালিদ হোসেন জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রকল্পের আওতাধীন বাণী ভবন ও ড. হাবিবুর রহমান ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে এবং অন্যান্য চলমান কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে।
সভায় ইউজিসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া, অতিরিক্ত পরিচালক শাহ মো. আমিনুল ইসলাম, উপ-পরিচালক রোকসানা লায়লা এবং সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সমযয়ের মধ্যে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরিকল্পনা মাফিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তারা উল্লেখ করেন, এ প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ আমিরুল ইসলাম প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, চলমান নির্মাণকাজ এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।
পরিদর্শন ও পর্যালোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন, প্রকল্প তদারকি কমিটির সদস্যবৃন্দ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মোঃ গিয়াস উদ্দিন, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম, বহিরাঙ্গন কার্যক্রমের পরিচালক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ এবং সহকারী প্রক্টরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


