logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

জবিতে ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে জৈবপ্রযুক্তি’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

  • Published
  • 22 Jul, 2026
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের যৌথ আয়োজনে মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে জৈবপ্রযুক্তি’ শীর্ষক সেমিনার হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন। তিনি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় বিভাগ। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জৈবপ্রযুক্তির সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
উপাচার্য বলেন, গবেষণা ও একাডেমিক মানোন্নয়নের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও এগিয়ে নিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র্যাংবকিংয়ের অবস্থান উন্নয়নে গবেষণা, উদ্ভাবন, মানসম্মত প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সকলকে আরও সক্রিয় ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, কারিকুলাম উন্নয়ন, গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রকাশনা এবং সামগ্রিক একাডেমিক উৎকর্ষ সাধনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন এবং লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল আলীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেমিনার আয়োজনের আহ্বায়ক ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সুমাইয়া ফারাহ খান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন বলেন, বিজ্ঞানের উদ্ভাবনী শক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে মানবকল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। জৈবপ্রযুক্তির মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রকে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্য শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বিকশিত করতে হবে। দেশের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সেমিনারের সায়েন্টিফিক সেশনে কি-নোট স্পিকার হিসেবে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিকুর রহমান ‘মানবতার জন্য জৈব প্রযুক্তি’ বিষয়ে এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের ইমরান খান ‘ঔষধ শিল্পে জৈবপ্রযুক্তির বিভিন্ন দিক’ নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁরা মানবজাতির কল্যাণে জৈবপ্রযুক্তির গুরুত্ব, ক্লাসিক্যাল ও আধুনিক জৈবপ্রযুক্তির বিকাশ ও অর্জন, জীবন ও পরিবেশ সুরক্ষায় জৈবপ্রযুক্তির ভূমিকা, কৃষি ও ফসল উৎপাদনে জৈবপ্রযুক্তির প্রয়োগ এবং সম্ভাবনাময় জৈবপ্রযুক্তি খাতের সঠিক নীতি ও নীতি প্রণয়নের গুরুত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও শিল্পোন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জৈবপ্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে জৈবপ্রযুক্তির সঙ্গে অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, গবেষণা জোরদার এবং যুগোপযোগী নীতি প্রণয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পোস্টার প্রেজেন্টেশন ও জৈবপ্রযুক্তি অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়া জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পূর্তি এবং ১১তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ ম্যাগাজিন ‘Genefinity’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন।
অনুষ্ঠানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।