জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে নানা আয়োজনে মননে জুলাই শীর্ষক অনুষ্ঠান বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের পরে জুলাই বিষয়ক বিভিন্ন ডকুমেন্টরি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী করা হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ নিস্তার জাহান কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়-এর ডা. জাহেদ উর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, এমপি এবং সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত নারী) ও সমন্বয়ক মায়ের ডাক সানজিদা ইসলাম তুলি, এমপি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়-এর ডা. জাহেদ উর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, মননে জুলাই আমাদের সবাইকে ধারণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ যেমন একদিনে আসে নাই তেমনি জুলাই হঠাৎ করে বজ্রপাতের মতো একদিনে আসে নাই। শেখ হাসিনার ১৫ বছর পর পতন হয়েছে। তাঁরা চেয়েছিলেন ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে, কিন্তু তাঁরা তা পারেননি। বিএনপিসহ সবার শক্তি একত্রিত হওয়ার এবং প্রতিটা শ্রেণি পেশার মানুষ তাদের সমষ্টিগত আন্দোলনের কারণেই আমরা জুলাই পেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তরিক ভাবে সবার সাথে কাজ করতে ও জুলাইকে মননে ধারণ করতে চান। তাই তিনি সবাইকে যোগ্য হিসেবে দেখতে এবং সবার আগে বাংলাদেশ চান।
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আমি দীর্ঘকাল থেকে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় এবং ব্লগে লিখতাম যে, তাঁর পতন এবং একটা সুষ্ঠ গনতন্ত্র বাংলাদেশ আমরা চেয়েছিলাম। আমি আশা করব আমরা যেন হতাশ না হই, আমরা মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক দেশের চেয়ে ভাল আছি। আমাদের প্রতিটা লড়াই এর উপর স্যানশন দেওয়া হয়েছে, তারপর আমরা ক্রমাগত লড়াই করেছি বিধায় আজকে এখানে দাড়িয়ে কথা বলতে পারছি জুলাই বিপ্লবের জন্য। শেখ হাসিনার পতনে পরে একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। একটা ভালো নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের সাথে আমি কাজ করছি। এই সরকারের অবশ্যই ভুলভ্রান্তি আছে, থাকতেই পারে। আমি নিজেও বহু সময় সেই ভুলভ্রান্তিগুলো উল্ল্যেখ করার চেষ্টা করি আন্তরিকভাবে।
বিশেষ অথিতির বক্তব্যে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, এমপি বলেন, দীর্ঘ সতেরো বৎসর যাবত বাংলাদেশের মানচিত্রকে ফ্যাসিবাদিরা জিম্মি করে রেখেছিল। তাঁরা বাংলাদেশেকে ভালবাসেনি। দলিলে স্বাক্ষর করে তাঁরা ক্ষমতায় এসেছিল। আর যিনি স্বাক্ষর করেননি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর উপর করা হয়েছে অমানুষিক অত্যাচার ও নির্যাতন। এমনকি তারেক রহমানের উপর চলে নির্মম নির্যাতন।
আমরা জুলাইকে যারা ধারণ করি, যারা জুলাইয়ের সহযোদ্ধাদের লাশ নিয়ে নিজেরা গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজপথে ছিলাম। সবার কাছে অনুরোধ থাকবে, যারা আমাদের সাথে ছিল, সহযোগিতা করেছে, সবার চেষ্টা, সবার অবদানকে আমরা অনেক বড় করে দেখছি। কারণ সকল ধরনের কষ্ট ও নির্যাতন যিনি সহ্য করেছেন তিনি হচ্ছেন তারেক রহমান। আর তিনি বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। নির্যাতিত মানুষ ও নির্যাতিত পরিবার সকলের অভিভাবক হিসেবে তারেক রহমান আছে ছায়া হয়ে। জুলাই পরিবারের, শহিদ পরিবার, গুম পরিবারের যারাই আছেন তাঁরা ধৈর্য্য হারাবেন না। আপনাদের অভিভাবক তারেক রহমান। তিনি যেভাবে বাংলাদেশকে দেখে রাখছেন, আপনাদেরকে ও দেখে রাখবেন ইনশাল্লাহ। আর আমি সারা বাংলাদেশকে বলছি, সারা বাংলাদেশের সবার উদ্দেশ্যেই বলছি, যারা জুলাই আন্দোলনে ছিলেন, জুলাইয়ের সাথে ছিলেন, যারা ধারণ করেন, কষ্ট করেছেন, আপনারাও ধৈর্য ধারণ করবেন। এই খুনিদের বিচার একদিন বাংলাদেশের মাটিতে হবে ইনশাল্লাহ এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও চান।
বিশেষ অথিতির বক্তব্যে সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত নারী) ও সমন্বয়ক মায়ের ডাক সানজিদা ইসলাম তুলি, এমপি বলেন, আমি মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেছি বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। স্বৈরশাসনের শাসনকালে গুম কমিশনের তথ্য মতে প্রায় দেড় হাজার মানুষের গুম হওয়া র সত্যতা পাওয়া গেছে। যেখানে অনেক পরিবার যাদের সন্তান রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা বিচার বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন জায়গায় থেকে বলপূর্বক গুম করা হয়েছিল । আমার ভাই ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। ২০১৩ সালে আমার ভাইয়ের সাথে আরও ছয়জন ছিলেন। যাদের মধ্যে তিনজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আল আমিন, রানা আর রাসেল ছিলেন। ফ্যাসিবাদি সরকার চরম মানবাধিকার লংঘন করেছে। তাই আমরা জুলাইকে নষ্ট হতে দিবো না। নিষিদ্ধ সংগঠনের কোন জায়গা হবে না এই বাংলায় , যতদিন এই জুলাই বেচেঁ থাকবে।
তিনি আরো বলেন, জুলাইকে আমাদের মেধা ও মননে রাখতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুলাই আন্দোলনে ইকরামুল হক সাজিদ শহিদ হয়েছে। জুলাই একটা সংখ্যা নয়, জুলাই হাজারো মা, ভাই বোন,বাবা চেয়েছিলেন সুন্দর ভবিষ কিন্তু কি পেয়েছে তাঁর উত্তর এখন তাদেরকে দিতে পারি নাই। তাই আমরা ন্যায় বিচার বির্নিমানে কাজ করে যাচ্ছি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, মননে জুলাই আমাদের সবাইকে ধারণ করতে হবে। জুলাই ২য় বর্ষে আজকে প্রথম ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজনে এই অনুষ্ঠান হওয়ায় তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। জুলাই শিখিয়েছে সঠিক সময় সঠিক কাজ করতে হবে। এটি ধারণ করতে হবে। আজকে জুলাই সফল না হলে হয়তো আমার কবরের গাছটি অনেক বড় হয়ে যেতো। তাই জুলাইকে সঠিক ভাবে মননে ধারণ করতে হবে।
১৯৭১ সালে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, আর জুলাই পেয়েছি দীর্ঘ সংগ্রাম ত্যাগের বিনিময়ে। যেখানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি, সাধারণ দিনমজুর, কৃষক, কাঠমিস্ত্রি সবার আন্দোলনের ফসল জুলাই। সুতরাং জুলাই কারো একার অবদান কিংবা এক অথবা দেড় মাসের আন্দোলনের ফসল নয়। জুলাই হলো সবার আন্দোলনের ফসল। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লাগাতর আন্দোলনের কর্মসূচির ফলে হতে হয়েছে গুম, খুনের শিকার। তারা চেয়েছিল জাতিসত্তাকে মুছে ফেলতে। তাই সত্যিকার অর্থে মেধা মননে জুলাইকে ধারণ করতে হবে।
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, জুলাই আন্দোলনে সবাই যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন বিধায় আজকে আমরা এখানে দাড়িয়ে কথা বলতে পেরেছি। জুলাই আন্দোলনে অমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদর সাথে নিয়মিত খোজ খবর রেখেছি এবং তাদেরকে সাধ্যমতো সহযোগীতা করার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি আমি আমার নিজের সন্তানকে আন্দোলনে পাঠিয়েছি এবং সবসময় তাদের খবর রেখেছি, এবং আমি মনে করি এরা সবাই জুলাই যোদ্ধা। কারন একদিনে জুলাই আসেনি। বাংলাদেশের মানুষকে যেনো আর কখন এই জুলাই ফেস করতে না হয় এবং জুলাইকে ধারণ করে সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে।
এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, চেয়ারম্যান, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, ছাত্র হল-১-এর প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, , শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থীবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা, কর্মকর্তা ও কর্মচারী জবি ছাত্র দলের আহ্বায়ক,ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
