জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসনের উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও বিভাগে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শ্রেণিকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফারহানা জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের সংগ্রামের একটি উপসংহার। এ আন্দোলনের মূল চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে দুর্নীতি, বৈষম্য, অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের অবসান ঘটাতে হবে।
তিনি বলেন, জনজীবনে দুর্নীতি, বৈষম্য, অন্যায় ও অবিচারের চর্চা যদি আবার ফিরে আসে, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও অর্জন ব্যর্থ হবে। তাই জুলাইয়ের চেতনা তখনই সার্থক হবে, যখন একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। অন্যথায় আমরা একটি দুর্ভাগা জাতিতে পরিণত হবো। এ জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং চিন্তা ও চেতনায় জুলাইয়ের স্পিরিট ধারণ করতে হবে।
ট্রেজারার মহোদয় আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিবর্তন আনলেই হবে না; বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতার চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে একটি সুন্দর ও টেকসই সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি একাডেমিয়া ও সমাজের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা ও সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শুধু ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন যথেষ্ট নয়; সমাজের বাস্তব সমস্যা ও চাহিদার সঙ্গে একাডেমিক জ্ঞান ও গবেষণার কার্যকর সংযোগ স্থাপন করতে হবে। একাডেমিয়া-সোসাইটি কোলাবোরেশন জোরদার করা গেলে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের পাশাপাশি নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, সমাজ পরিচালনা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য একাডেমিয়া ও সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য ও চেতনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে এ উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।




