আধুনিক প্রযুক্তি, কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাবনা, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘Pubali Bank PLC Presents Jagannath University AI & IT Fest 2026’। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের এই মিলনমেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক, শিল্পখাতের পেশাজীবী ও তরুণ উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটির (JnUITS) আয়োজনে এ ফেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিযোগিতা, কি-নোট সেশন, প্যানেল আলোচনা, এআই অ্যাডভেঞ্চার, ব্রেইনচাইল্ড, এআই ও আইটি অলিম্পিয়াড, রোবো সকারসহ নানা আয়োজন ছিল। জমকালো সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
ফেস্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সমাপনী অনুষ্ঠানে ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন এবং পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী। এছাড়াও সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান ও আইটি সোসাইটির মেন্টর অধ্যাপক ড. আবু লায়েকসহ সিএসই বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও করপোরেট বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করা এ আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞান ও জাতীয় শিল্পখাতের চাহিদার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন, তরুণ উদ্ভাবক ও সমস্যা সমাধানকারীদের দক্ষতা বিকাশ এবং প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষার্থীদের জন্য শিল্পখাতের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করাও এ ফেস্টের লক্ষ্য।
দিনব্যাপী আয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান ব্যবহার, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, শিক্ষা, প্রকৌশল, করপোরেট ক্যারিয়ার ও হার্ডওয়্যার প্রযুক্তি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। ‘AI Implementation in Education’ শীর্ষক সেশনে বক্তব্য দেন টেকনোলজিস্ট, গবেষক ও এআই স্ট্র্যাটেজিস্ট ড. জুনায়েদ কাজী। ‘AI-Native Engineering: How AI is Changing the Way We Build’ শীর্ষক সেশনে বক্তব্য দেন Ollyo-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সজিব আহমেদ।
‘AI & IT in Corporate Career’ শীর্ষক সেশনে বক্তব্য দেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন নাবিলা খালিদ। ‘AI in the Near Future’ বিষয়ে বক্তব্য দেন ডাটাসফট সিস্টেমসের প্রেসিডেন্ট এম মনজুর মাহমুদ। এছাড়া ‘Hardware, PC & AI’ বিষয়ে বক্তব্য দেন পিসিবি স্টোরের প্রতিষ্ঠাতা অনন্য জামান। এসব সেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ফেস্টের অংশ হিসেবে টেকআনকাট-এর আয়োজনে ‘এআই ও আইটি-র যুগে ক্যারিয়ার গড়ার পথ’ শীর্ষক একটি ফ্ল্যাগশিপ অন-গ্রাউন্ড প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংশ্লিষ্ট খাতের বিশিষ্ট পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে মতামত দেন।
একই ধারাবাহিকতায় টেকআনকাট-এর অংশ হিসেবে ‘ব্রেইন ড্রেইন, এআই এবং যুবকদের জন্য দক্ষতার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক অনলাইন প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ-বিদেশের শিল্প পেশাজীবী ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের ফলে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে পরিবর্তন, দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রয়োজনীয়তা, মেধা পাচার এবং তরুণদের জন্য ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়োজনে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এআই ও আইটি অলিম্পিয়াড, ব্রেইনচাইল্ড, রোবো সকার ও এআই অ্যাডভেঞ্চারসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত জ্ঞান, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও দলগত কাজের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পান।
আয়োজকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষভিত্তিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব প্রযুক্তি ও শিল্পখাতের সঙ্গে তাদের পরিচিত করে তোলা সময়ের দাবি। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভের পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দিনব্যাপী বিভিন্ন আয়োজন শেষে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, ‘Jagannath University AI & IT Fest 2026’ ভবিষ্যতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনচর্চায় আরও উৎসাহিত করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে।




