logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

জবি লোক প্রশাসন বিভাগের একযুগপূর্তি উৎসব অনুষ্ঠিত

  • Published
  • 31 Aug, 2025
৩০ আগস্ট ২০২৫, শনিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের একযুগপূর্তি উৎসব ও সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে আনন্দ র‌্যালী, আলোচনা সভা, স্মরণিকা মোড়ক উন্মোচন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মনোজ্ঞ কনসার্টের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ রেজাউল করিম, পিএইচডি। তিনি বলেন, লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রচলিত অর্থে মেধায় অনেকটাই এগিয়ে, এবং আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও তারা পেশাগত জীবনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করবে।
তিনি আরোও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সমস্যার সমাধান আমাদের এককভাবে করা সম্ভব নয়। সব কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও আমরা বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথে এগিয়ে চলেছি। তবে এটাও সত্য, এইসব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়। তারপরও অনেক সমস্যা সমাধানের পথে এগিয়েছি আর এগুলো সবই আমাদের শিক্ষা সহায়ক। তিনি বলেন, একাডেমিক শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণ। যদিও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে আমরা প্রত্যাশিত সময় দিতে পারি না, তবুও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের গবেষণায় যুক্ত করার লক্ষ্যে শিক্ষকদের গবেষণা সহকারী হিসেবে তাদের নিয়োজিত করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উপাচার্য মহোদয় আরও জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস ও কোর্স কারিকুলাম নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ক্লাস মনিটরিং সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের একাডেমিক ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো বাস্তবায়ন হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, আমি যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণ করেছি, সেই প্রতিষ্ঠান আমাকে একটি পরিচয় দিয়েছে, যার ভিত্তিতেই আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি। তেমনি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও তোমাদের একটি পরিচয় দিয়েছে, যেটিকে ধারণ করে তোমরা ভবিষ্যতে পেশাগত জীবনসহ সামগ্রিক জীবনের পথচলা নির্ধারণ করবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বৃহত্তর বাস্তবতার বাইরে নয়। আমাদের সমস্যাগুলোর সংখ্যা হয়তো তুলনামূলকভাবে বেশি, তবে এসব সমস্যার সমাধানে আমরা সর্বাত্মকভাবে সচেষ্ট এবং নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা আমাদের জন্য বাইরের কেউ নয়, আমরা সবাই মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমন্বিত অংশ। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো সমস্যার সমাধানে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম হবে।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সানজিদা ফারহানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আছমা বিন্‌তে ইকবাল। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক রিফাত ফারহানা এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুমান মাহ্‌ফুজ ও সুবাহ্‌ সামারা।
সকালে একটি আনন্দ র‌্যালী পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। আলোচনা সভার মাঝে অতিথিবৃন্দ ‘দীপাধার’ নামে একটি স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন। বিকালে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যায় মনোমুগ্ধকর কনসার্টের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।