জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সমাজকর্ম বিভাগে ২০তম ও ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং ১৩তম ও ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান সোমবার (১৮ মে ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন সমাজ ও মানবকল্যাণের জন্য কাজ করার উদ্দেশ্যে। সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এই দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা সরাসরি সমাজের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পায়। তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তা মানুষকে সুন্দর অবয়ব ও বিশেষ মর্যাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীরা সমাজ গঠনের কারিগর হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে এবং ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য পথপ্রদর্শক হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আইনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে বিজনেস স্টাডিজ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তির পাশাপাশি সমাজকর্ম সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করার দায় আমাদের সকলের রয়েছে। এই দায়বদ্ধতা থেকে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও পেশাগত সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সফলতা কামনা করেন এবং বিভাগীয় ব্যবহারিক কার্যক্রম ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে সমাজকর্মের গুরুত্ব ও কার্যকারিতা আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ আবুল হোসেন।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সমাজকর্ম সমিতির বিদায়ী মডারেটরদেরও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। প্রাণবন্ত আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
