জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন-এর মধ্যে ২৪ নভেম্বর ২০২৫, সোমবার একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন এবং কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের পরিচালক (মোটিভেশন) জনাব এম. রেজাউল হাসান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ রেজাউল করিম, পিএইচডি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের অগ্রযাত্রা প্রশংসনীয়। সমাজে এ সংগঠনের কার্যক্রম ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেই এর গ্রহণযোগ্যতা ও স্থায়িত্ব বজায় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক দৃঢ়তা ও সুস্থতা বৃদ্ধিতে এই সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। মার্কেটিং বিভাগের মাধ্যমে শুরু হলেও ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, করোনা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে গত বছরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক ভূমিকম্প—এ ধরনের প্রতিটি ঘটনাই আমাদের সমাজ বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসিক চাপ এবং ট্রমার সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতেও এমন আরও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে, যা আমাদের মানসিকভাবে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। এ ধরনের প্রেক্ষাপটে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য। মানসিক সুস্থতা ও ট্রমা ব্যবস্থাপনায় তাদের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা, সুস্পষ্ট মিশন ও ভিশন আমাদের শিক্ষার্থীদের সহায়তায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিভাগের অধ্যপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এবং কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষা জীবনের চাপ, উদ্বেগ এবং ট্রমা মোকাবেলায় ব্যবহারিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য কৌশল প্রদান করবে। চুক্তিটি প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে।
