শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী শহীদ ইকরামুল হক সাজিদের কবর জিয়ারত ও তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। এদিন সকালে তিনি টাঙ্গাইলের ধনবাড়িতে অবস্থিত শহীদ সাজিদের কবর জিয়ারত করেন এবং গভীর শ্রদ্ধার সাথে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
জিয়ারতকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ইউট্যাব জবি শাখার নেতৃবৃন্দ, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, জকসু ও বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারত শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, যাদের আত্মদানে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছি, তাদের মধ্যে আমাদের সূর্যসন্তান সাজিদ অন্যতম। শহীদ সাজিদ আমাদের গর্ব ও প্রেরণার উৎস। তার আত্মত্যাগের বিনিময়ে জাতি আজ এক স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা এমন এক সন্তানের কবর জিয়ারত করছি, যার আত্মদান আমাদের সম্মানিত করেছে। আল্লাহ তাকে আরও সম্মানিত করুন।
তিনি উল্লেখ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সবসময় যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ সাজিদের পরিবারের পাশে থাকবে। পাশাপাশি তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের শহীদদের আত্মত্যাগকে সামনে রেখে দেশের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত।
উপাচার্য আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনগুলোর স্বাতন্ত্র্য ও ঐতিহ্যের ঐক্য আজকের উপস্থিতির মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সবার উপস্থিতি প্রমাণ করে শহীদ সাজিদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। তিনি বলেন, সাজিদের আত্মত্যাগ তাকে ইতিহাসে স্থান করে দিয়েছে এবং জবিকে সম্মানিত করেছে।
এ সময় শহীদ সাজিদের মা উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার সন্তানের জন্য দোয়া কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাঃ আলী নূর, শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক এবং এআইএস বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুর রহমান। এছাড়াও স্থানীয় থানা ও পৌর বিএনপি নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন।
বক্তারা শহীদ সাজিদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তার আত্মত্যাগের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসাথে তারা উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানান শহীদ সাজিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এবং তার পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, নবনিযুক্ত উপাচার্যের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর পূর্বে শহীদ সাজিদের কবর জিয়ারত ও তাকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
