রবিবার (২৯ মার্চ ২০২৬) সকাল ৯টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে তাঁর প্রথম কর্মদিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, সকল অনুষদের ডিনবৃন্দ, বিভাগগুলোর চেয়ারম্যানবৃন্দ ও প্রশাসনিক দপ্তরের পরিচালকবৃন্দের সমন্বয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভার শুরুতে নবনিযুক্ত উপাচার্য মহোদয়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন অভিনন্দন জানান। তারপর উপাচার্য মহোদয় জবির এআইএস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ জহিরুল ইসলামের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে একটি শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
পরবর্তীতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত শিক্ষক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে ঈদ পরবর্তী দৌলতদিয়া ফেরিঘাটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘটিত মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া তাঁর জন্য গর্বের এবং এটি দায়িত্ব পালনে তাঁকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি নিয়োগপ্রাপ্তির পরপরই বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা, যেমন—জাতীয় নেতৃবৃন্দের মাজার জিয়ারত ও ঈদের জামাত পরিচালনার বিষয় তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে ক্লাস, পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ নিশ্চিত করা গেলে সেশনজট দূর করা সম্ভব। বর্তমান সেশনজট নিরসনে অতিরিক্ত ক্লাস গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং কার্যক্রম জোরদার করা, ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড ও ডিনস অ্যাওয়ার্ড চালুর বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সভা নিয়মিত ও সময়মতো আয়োজন করতে হবে এবং শিক্ষকদের পদোন্নতি যথাসময়ে নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা কোনোভাবেই যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপরও জোর দেন উপাচার্য মহোদয়।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন নবনিযুক্ত উপাচার্যের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তিনি সকলের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. পরিমল বালা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সানজিদা ফারহানা, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাঃ আলী নূর, লাইফ এন্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল আলীম,চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বজলুর রশীদ খান, আইন অনুষদের ডিন খ্রীষ্টিন রিচার্ডসন, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, ইনস্টিটিউট পরিচালক ও প্রশাসনিক প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা তাদের বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, গবেষণা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং সেশনজট নিরসন, গবেষণার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক র্যাং কিংয়ে অগ্রগতির বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলীতে অভিজ্ঞ হওয়ায় নবনিযুক্ত উপাচার্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। একই সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সকলের সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
