জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের সাথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু), বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন এবং দায়িত্বরত সাংবাদিক ও রিপোর্টারদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, উপাচার্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তির পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষ থেকে পাওয়া আন্তরিক ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, তাদের সমস্যা সমাধানই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। সেশনজট নিরসনে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ চালুর মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্লাস গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন চলতি সপ্তাহেই পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন মতাদর্শের সহাবস্থান থাকলেও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
উপাচার্য মহোদয় জবি ছাত্রসংগঠনগুলোরে ঐক্যের যে স্বাতন্ত্রিক ঐতিহ্য রয়েছে, এ ঐতিহ্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি সম্পূরক বৃত্তি, আবাসন সমস্যা, ক্যান্টিনে খাবারের মূল্য হ্রাস এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের অগ্রগতি বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তাঁর জন্য গর্বের বিষয়। দায়িত্ব শেষে যেন কোনো জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে না হয়, সে লক্ষ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন নবনিযুক্ত উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত অগ্রগতির আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, উপাচার্য একজন ডায়নামিক নেতৃত্বের অধিকারী এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
সভাটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুমাত্রিক সমস্যা সমাধানে পারস্পরিক মতবিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এ উদ্দেশ্যেই এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বিদায়ী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক নতুন প্রশাসনের প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অপরদিকে নবনিযুক্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় জকসুর নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জবি), বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির (জবি), বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ (জবি), গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি (জবি), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (জবি), ছাত্র ইউনিয়ন (জবি) এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন (জবি)-এর নেতৃবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও রিপোর্টাররা উপস্থিত ছিলেন।
তারা নবনিযুক্ত উপাচার্যকে অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষার্থীদের সম্পূরক বৃত্তির দ্রুত বাস্তবায়ন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা, ক্যান্টিনের খাবারের মানোন্নয়ন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি উপাচার্যের সফলতা কামনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
