জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এ দুইদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা বর্ষবরণ-১৪৩৩ উদযাপনের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে রয়েছে কনসার্ট, ব্যান্ড সংগীত ও পুরস্কার বিতরণী।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনের দ্বিতীয় দিন বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। “নববর্ষের আবাহন: ঐক্য, শান্তি, উত্তরণ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের সদস্যদের অংশগ্রহণে দুইদিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
এর আগে প্রথম দিনের কর্মসূচিতে বৈশাখী শোভাযাত্রা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বৈশাখী মেলা, শুভেচ্ছা বিনিময়, লোকজ সংগীত এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা উৎসবকে মহাসমারোহে উদযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমাপনী দিনের কার্যক্রম শুরু হয় দুপুর ২টায় শিক্ষার্থীদের পরিবেশনার মাধ্যমে। পরে বিকাল ৩টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ব্যান্ড দলের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত ব্যান্ড সংগীত পরিবেশিত হয়।
বিকেলে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বৈশাখী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষের আয়োজন সর্বজনীন করার লক্ষ্যে এবারের কর্মসূচি পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত ও বর্ণিল করতে এ বছর দুইদিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
উপাচার্য আরও বলেন, গতকালের বৈশাখী র্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অতীতের যেকোনো র্যালি তুলনায় বৃহত্তম ছিল এবং এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সদস্যকে সব ধরনের আয়োজনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিচ্ছিন্নতা পরিহার করে সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আয়োজনের মূল লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ ও ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে তারা কখনও হতাশাগ্রস্ত না হয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে থাকতে পারে। পাশাপাশি তিনি আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধারণ ও লালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও আনন্দঘন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। তিনি বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য দুইদিনের পুরো আয়োজনেই প্রতিফলিত হয়েছে এবং অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় জবি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া নতুন বছরে পুরনো সংকীর্ণতা ভুলে নতুন সম্ভাবনাকে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
এছাড়াও বিভিন্ন অতিথি, যার মধ্যে বুলবুল একাডেমি অব ফাইন অ্যান্ড আর্টসের অধ্যক্ষ ও কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিনিধি, শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বজলুর রশীদ খান।
বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বৈশাখী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাটি তিনটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগগুলো ছিল—ক বিভাগ (কেজি থেকে চতুর্থ শ্রেণি), খ বিভাগ (পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি) এবং গ বিভাগ (নবম থেকে দশম শ্রেণি)।
ক বিভাগে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ-এর শিক্ষার্থী ফাইজান প্রথম স্থান অর্জন করে। একই বিভাগে সানিডিল স্কুল-এর শিক্ষার্থী ওয়ালিদ দ্বিতীয় এবং পুনরায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী সায়রা তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
খ বিভাগে আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ-এর শিক্ষার্থী হায়দার প্রথম স্থান অর্জন করে। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল-এর শিক্ষার্থী সাঞ্জিবন দ্বিতীয় এবং গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল-এর শিক্ষার্থী সপ্তক তৃতীয় স্থান লাভ করে।
গ বিভাগে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ স্কুল-এর শিক্ষার্থী হায়দার প্রথম স্থান অর্জন করে। মতিঝিল মডেল স্কুল-এর শিক্ষার্থী অভিষেক দ্বিতীয় এবং ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল-এর শিক্ষার্থী লিংকন তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
পুরস্কার বিতরণ শেষে নিজস্ব ব্যান্ড দলের পরিবেশনাসহ বৈশাখী উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে দেশসেরা লালন ব্যান্ডের মনোমুগ্ধকর কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
