জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতক (সম্মান) ২০তম ব্যাচের নবীনবরণ এবং ১৫তম ব্যাচের বিদায় উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভাগটির অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কোরআন ও হাদিসভিত্তিক জ্ঞানচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাদের দায়িত্ববোধ ও নৈতিক অবস্থান অন্যান্যদের তুলনায় স্বতন্ত্র ও অনুকরণীয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শিক্ষার্থীরা যেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শকে ধারণ করে তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে সক্ষম হয় এবং তাঁর সুন্নাহ তাদের দৈনন্দিন জীবনাচরণে প্রতিফলিত হয়।
উপাচার্য আরও বলেন, বিভেদ ও বিভাজন পরিহার করে সকলকে সঙ্গে নিয়ে কল্যাণকর ও দৃশ্যমান কার্যক্রমের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি কো-কারিকুলার ও এক্সট্রা-কারিকুলার কার্যক্রমে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি নিজেদেরকে সুশিক্ষিত, সৎ ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা সবসময় এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাদের সাফল্য ও অর্জনই প্রতিষ্ঠানটির সুনাম বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতীতের ন্যায় কোনো প্রকার বিভাজন ও বিভক্তি সৃষ্টির অপচেষ্টায় যেন কেউ সম্পৃক্ত না হয় এবং এ বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নূরুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। তিনি বলেন, এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে। নবীন শিক্ষার্থীদের সফল পথচলা কামনা করে তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে ভবিষ্যৎ জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক এবং ইসলামিক স্টাডিজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ শাহীন মোল্লা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নূরুল আমিন। পরে নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষার্থীরা নবীনদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয় এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এ সময় ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘প্রত্যয়’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন উপাচার্য মহোদয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। এ উপলক্ষে বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ও অ্যালামনাই সদস্যরা তাঁকে সম্মাননা প্রদান করেন। সম্মাননা প্রদানের পূর্বে বিভাগের শিক্ষক ড. মুহাম্মদ খাইরুল ইসলাম সম্মাননা পত্রটি পাঠ করেন।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক ড. তারেক বিন আতিক-কে বিভাগের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের শিক্ষক ড. মোঃ ইব্রাহীম খলিল। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

