রবিবার (৩ মে ২০২৬) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের (২১তম ব্যাচ) স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ক্লাস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আয়োজন করা হয় ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন দিনব্যাপী বিভিন্ন বিভাগের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবাগত শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। সকাল থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রাণিবিদ্যা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, মার্কেটিং, ফিন্যান্স, ফার্মেসি, মাইক্রোবায়োলজি, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
উপাচার্য মহোদয় নবাগত শিক্ষার্থীদের আন্তরিক স্বাগত জানিয়ে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১তম ব্যাচের পদার্পণ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য এক গর্ব ও আনন্দের বিষয়। নতুন করে ২৮৭২ জন শিক্ষার্থীর সংযোজনের মাধ্যমে জবি পরিবার আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নবীন শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের জ্ঞানার্জনের পথচলা সফলভাবে সম্পন্ন করবে এবং নিজেদের মেধা ও যোগ্যতায় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।
তিনি নবীনদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যেন সিনিয়রদের দ্বারা হেনস্তা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার না হয়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের যেকোনো ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত সম্পদ ও বিদ্যমান বাস্তবতার মধ্যে থেকেই সকলকে নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। অবকাঠামোগত ও অন্যান্য সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সমস্যার সমাধানে সময় লাগবে; তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এ লক্ষ্যে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে “টিম জগন্নাথ” হিসেবে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে নতুন প্রজন্মের ভূমিকা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মের গৌরবোজ্জ্বল অবদান স্মরণীয়। তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পরবর্তীকালে কিছু ক্ষেত্রে সিনিয়রদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন ও অপসংস্কৃতির চর্চা এ প্রজন্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থেকে দায়িত্বশীল ও শালীন আচরণ বজায় রাখার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের একটি উন্নত জাতি ও সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি, পিতা-মাতার প্রত্যাশা পূরণে সৎ চরিত্র, ইতিবাচক মানসিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অনুষদভিত্তিক ডিনদের মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. পরিমল বালা, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল আলীম এবং বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাঃ আলী নূরও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তাদের শিক্ষা জীবন যেন সুখময় হয় এবং তারা যেন প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগকে ধারণের মাধ্যমে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ওরিয়েন্টেশনের দিনে সকল নবীন শিক্ষার্থীর মধ্যে আইডি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত শিক্ষার্থী সহায়িকাও তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পথচলা সহজতর করতে সহায়ক হবে ।
অনুষ্ঠানগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিটি বিভাগের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষক ও নবাগত শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

