logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

জবিতে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি শেষে ক্লাস শুরু ও ইনডোর গেমসের অনাকাঙ্খিত ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

  • Published
  • 04 May, 2026
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের (২১তম ব্যাচ) স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে ক্লাস শুরু হওয়ায় এবং সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ইনডোর গেমসের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে গৃহীত তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করতে আজ রবিবার (৩ মে ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীনের সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য মহোদয় বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ওরিয়েন্টেশন আয়োজনের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি ভর্তি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকল ডিন, দপ্তর ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আগেই ক্লাস শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত হতো এবং তা তাদের একাডেমিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলত। তবে এবারে এ ধরনের সমস্যার অবসান হয়েছে। নবীন শিক্ষার্থীরা প্রথম দিনেই তাদের রোল নম্বর, পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রণীত শিক্ষার্থী সহায়িকা হাতে পেয়েছে। পাশাপাশি তাদের সিলেবাস ও ক্লাস রুটিনও প্রদান করা হয়েছে, যাতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালিত হতে পারে।
উপাচার্য মহোদয় আরও জানান, বর্তমান ব্যাচ যেন কোনো ধরনের সেশনজটে না পড়ে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী ব্যাচগুলোর সেশনজট নিরসনে একটি রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা শিগগিরই একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
নবীন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি র‌্যাগিং ও যেকোনো ধরনের হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য সম্প্রতি ইনডোর গেমসের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিব্রতকর বলে উল্লেখ করেন। এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়কের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া, ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর দ্বারা অন্য শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক আঘাতের ঘটনা বহু প্রত্যক্ষদর্শীর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে। উপাচার্য মহোদয় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসংগত আচরণকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতির পরিপন্থী উল্লেখ করে জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এদিকে, ইনডোর গেমস পরিচালনায় দায়িত্বে অবহেলার প্রেক্ষিতে ক্রীড়া উপ-কমিটির আহ্বায়ককে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে এবং সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ সম্পৃক্ত রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উপাচার্য মহোদয় জানান।
উপাচার্য মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও মর্যাদা রক্ষায় সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রচারে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, আইসিটি সেলের পরিচালক, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে একটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপাচার্য উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।