আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজনে ‘The Importance of World University Rankings: Rules, Criteria and Requirements’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে তাঁর অফিসের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ কর্মশালায় আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ের নিয়মনীতি, মূল্যায়নের মানদণ্ড, অংশগ্রহণের পূর্বপ্রস্তুতি এবং এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি উচ্চতর অবস্থানে উন্নীত করতে হলে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কার্যক্রমের চর্চা না থাকায় কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার আউটকাম এবং ফিডব্যাক কোনো অংশেই কম নয়। সচেতনতার অভাব ও যথাযথ প্রয়োগের ঘাটতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।
উপাচার্য আরও বলেন, আন্তর্জাতিক র্যাং কিংয়ে ভালো অবস্থান অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা দৃশ্যমান হতে হবে। অর্জিত জ্ঞানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারলেই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কার্যক্রম ইতোমধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে সেগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল ও পদ্ধতিগত কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে আজকের কর্মশালার মধ্য দিয়ে একটি নতুন যাত্রা শুরু হলো।
তিনি আরও বলেন, সম্মানজনক আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে। প্রয়োজন হলে প্রতি মাসে এ বিষয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য ফলোআপ সভার আয়োজন করা হবে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং আইকিউএসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছাতে হলে কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কী কী বিষয়ে উন্নয়ন প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, উপাচার্যের নেতৃত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য সমন্বিতভাবে এগিয়ে যাবে।
কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. ফারুক এম. শেখ। তিনি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ের বিভিন্ন সূচক, অংশগ্রহণের নিয়মনীতি, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, তথ্য-উপাত্ত ব্যবস্থাপনা, গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন স্কলার তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, সে বিষয়েও তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কর্মশালায় মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গন কার্যক্রমের পরিচালক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং -সংক্রান্ত গঠিত কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

