বিশেষ বৃত্তির অর্থ বিতরণে কারিগরি জটিলতা দূর করতে জরুরি সভা: অর্থ দ্রুত বিতরণে জবি প্রশাসনের উদ্যোগ, আগামী সপ্তাহের মধ্যে জটিলতা নিরসনের আশ্বাস।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ বৃত্তির অর্থ বিতরণে যে সকল শিক্ষার্থী বৃত্তির টাকা পাননি তাদের ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের আহ্বানে তাঁর কনফারেন্স রুমে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মকর্তাদের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ বৃত্তির চেক আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়। বৃত্তিপ্রাপ্ত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজার ১২৪ জন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৩০২ জন শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবে বৃত্তির অর্থ সফলভাবে জমা হয়েছে। তবে অবশিষ্ট ১ হাজার ৮২২ জন শিক্ষার্থীর হিসাবে অর্থ জমা না হওয়ায় তারা নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, সকল শিক্ষার্থীর বৃত্তির অর্থ একযোগে নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর দায়িত্ব অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের বিশ্ববিদ্যালয় শাখাকে দেওয়া হয়েছিল এবং এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল তথ্য যথাসময়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর হিসাবে অর্থ জমা না হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার জন্য এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে বৃত্তির অর্থ স্থানান্তর না হওয়ার কারণ সম্পর্কে অগ্রণী ব্যাংক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চান। তিনি এ বিষয়ে দায়-দায়িত্ব নিরূপণ, কোথায় গাফিলতি হয়েছে তা চিহ্নিত করা এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যেন আর কোনো ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সভায় অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানান, অবশিষ্ট ১ হাজার ৮২২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩১৮ জনের ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাবে এবং ৬৭০ জনের অন্যান্য ব্যাংকের হিসাবে প্রযুক্তিগত (টেকনিক্যাল) সমস্যার কারণে অর্থ স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া প্রায় ৭৭০ জন শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাব নম্বর, রাউটিং নম্বর ও অন্যান্য তথ্যে ত্রুটি থাকায় তাদের হিসাবে অর্থ পাঠানো যায়নি। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেল এবং বৃত্তি শাখার কর্মকর্তারা জানান, অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সকল কারিগরি ও তথ্যগত সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে। আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবারের মধ্যে অবশিষ্ট শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে বৃত্তির অর্থ পাঠানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিষয়ে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন নির্দেশনা দেন যে, বিষয়টি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করতে আজই বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি শাখা থেকে অবিলম্বে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই উদ্ভূত সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবে বৃত্তির অর্থ পৌঁছে যাবে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মোঃ গিয়াস উদ্দিন, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

