logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

মুরগিটোলা ঘটনার প্রেক্ষিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত: শান্তিপূর্ণ সমাধান ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ

  • Published
  • 16 Jul, 2026
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুরান ঢাকার মুরগিটোলা এলাকায় গত ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ মধ্যরাতে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। (৮ জুলাই, বুধবার) বেলা ২:৩০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন-এর সভাপতিত্বে তাঁর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, রেজিস্ট্রার, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, আইকিউএসি (IQAC)-এর অতিরিক্ত পরিচালকবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের পরিচালক, পরিবহন প্রশাসক, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি), গেন্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে গত ০৬ জুলাই মধ্যরাতে সংঘটিত ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, গেন্ডারিয়া থানার ওসি এবং প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ। তাঁরা ঘটনাক্রম, তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে উপস্থিত সদস্যদের অবহিত করেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, “সেদিনের ঘটনাকে আমরা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করছি। এ ঘটনার জন্য আমি নিন্দা ও দুঃখ প্রকাশ করছি।” তিনি থানায় দাখিলকৃত এফআরকে পূর্ণাঙ্গ মামলায় রূপ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনায় সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থী ও পুলিশ—উভয় পক্ষকেই সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় যেন পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা পায়, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
উপাচার্য আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে শিক্ষার্থীদের উচিত তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করা। তিনি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অতিউৎসাহী কোনো পুলিশ সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া আহত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রদান করা হবে বলেও তিনি জানান।
সভায় ওয়ারী জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, আসামীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করতেই পুলিশ দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়েছিল। কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লাঠিচার্জ করা হয়নি। তবে ওই দিনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের কষ্ট পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, এ ঘটনায় নিন্দার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো ভুল হয়ে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখবে। একইভাবে পুলিশ প্রশাসনের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান, তাদের কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি থাকলে সেটিও গুরুত্বসহকারে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, পারস্পরিক দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, অর্থ ও হিসাব পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম, বহিরাঙ্গন কার্যক্রমের পরিচালক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদসহ উপস্থিত সাংবাদিক ও ছাত্রনেতৃবৃন্দ। তাঁরা প্রত্যেকেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, দায়িত্বশীল আচরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বক্তারা সর্বসম্মতিক্রমে মত প্রকাশ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সংলাপ ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সকল পক্ষকে আরও সতর্ক, সংযত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।