logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

  • Published
  • 20 Jul, 2026
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আইনুল ইসলামকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ক্যাম্পাসে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে (১৯ জুলাই ২০২৬, রবিবার) দুপুর ২:০০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীনের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আনওয়ারুস সালাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
লিখিত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুস্পষ্টভাবে জানায় যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত অনুভূতির প্রতি প্রশাসনের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের মর্যাদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।
বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান প্রশাসন ‘টিম জগন্নাথ’-এর চেতনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে দায়িত্বশীল ও অংশগ্রহণমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী হত্যা, আহতকরণ, গ্রেপ্তার, দমন-পীড়ন কিংবা অন্য কোনো গুরুতর ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ, নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রচলিত আইন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে। কোনো ব্যক্তিকে চাপ প্রয়োগ, হেনস্তা বা বিচারবহির্ভূত প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত করার সংস্কৃতিকে প্রশাসন সমর্থন করে না।
ঘটনার পটভূমি তুলে ধরে জানানো হয়, গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের তৎকালীন ডিনের মেয়াদ শেষ হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫ অনুযায়ী অনুষদের জ্যেষ্ঠতম অধ্যাপক হিসেবে অধ্যাপক ড. মোঃ আইনুল ইসলামকে ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগের দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন—ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্র শক্তি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এবং জকসু—উপাচার্যের নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে জুলাই আন্দোলনকালীন সময়ে অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে ৩ আগস্ট গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, ৪ আগস্ট নীল দলের ব্যানারে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মেস থেকে ১৩ শিক্ষার্থীর গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রসংগঠনগুলো তাঁর ডিন হিসেবে নিয়োগের বিরোধিতা করে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, স্মারকলিপি পাওয়ার পর উপাচার্য বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সমাধানের লক্ষ্যে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ আজম খানকে আলোচনায় আহ্বান জানান। অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলামের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে পরিস্থিতির ইতিবাচক সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হলেও সে সময় পরিস্থিতির সন্তোষজনক সমাধান সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিনদের নিয়ে বৈঠক করেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির গ্রহণযোগ্য সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহিদ দিবস’-এ কয়েকজন শিক্ষার্থী উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপির অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তাঁদের আশ্বস্ত করেন যে, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হবে।
এরপর কয়েকজন শিক্ষার্থী অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাঁদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরই একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন শিক্ষার্থী অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলামকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও বিব্রতকর উল্লেখ করে জানায়, কোনো শিক্ষকের সঙ্গে অশোভন আচরণ, হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বর্তমান প্রশাসন সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করেছে। তিনি বলেন, অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক শিক্ষক গণতন্ত্রহরণ, বাক্‌স্বাধীনতা সংকোচন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন ও নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময় কিছু শিক্ষকের গণভবনে যাওয়া এবং নীল দলের ব্যানারে মানববন্ধনে অংশগ্রহণও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপাচার্য আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষক সমিতির ব্যানারে শিক্ষার্থীদের সমর্থনে মানববন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্বে মাত্র ১৪ জন শিক্ষককে নিয়ে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে নীল দলের ব্যানারে পৃথক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরও প্রশ্ন ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন ও সংশয় দূর করতে দায়িত্বশীল, আন্তরিক ও আস্থাবর্ধক বক্তব্য প্রদানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে এ ধরনের কার্যকর উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়া পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষকের গোপন যোগাযোগ বা বৈঠকের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত হয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, এসব অভিযোগের যথার্থতা তদন্ত ও প্রমাণের বিষয় হলেও শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও সংবেদনশীলতাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ৫ আগস্টের পর তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রেজাউল করিম জুলাই-সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেন। বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়াকে ওই কমিটির আহ্বায়ক করা হলেও তদন্ত কার্যক্রম এখনো সম্পন্ন হয়নি।
এছাড়া বর্তমান প্রশাসন অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে একজন সাবেক জেলা ও দায়রা জজকে নিয়োগ দিয়েছে। অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলামকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগও প্রয়োজনীয় লিখিত অভিযোগ ও তথ্যপ্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে যথাযথ তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে প্রশাসন জানায়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও উল্লেখ করে যে, জুলাই আন্দোলনে আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী শিক্ষার্থী, শহিদ পরিবার এবং আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের আবেগ ও ক্ষোভ স্বাভাবিক হলেও কোনো ব্যক্তিকে দলবদ্ধভাবে চাপ প্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। অতীতের নিপীড়নমূলক ও কর্তৃত্ববাদী সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি প্রশাসন কোনোভাবেই চায় না।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই অধ্যাপক ড. মোঃ আইনুল ইসলামকে ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই আইনি প্রক্রিয়ায় অন্যান্য অনুষদের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরাও ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলামকে ঘিরে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনের দায়িত্ব তাঁর নিজেরও রয়েছে বলে প্রশাসন মনে করে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনর্ব্যক্ত করে যে, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই লিখিত আকারে দাখিল করতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইন ও বিধি অনুযায়ী বিচারের আওতায় আনা হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির পরিবর্তে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বর্তমান প্রশাসন অঙ্গীকারবদ্ধ।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সকল ছাত্রসংগঠনের প্রতি প্রশাসন আহ্বান জানায়, কোনো ধরনের উসকানি, চাপ প্রয়োগ, অশোভন আচরণ বা সংঘাতের পথ পরিহার করে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা—দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী নয়; বরং ন্যায়বিচার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়েই একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি, প্রশাসনের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।