রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬, বিকাল ২টায়) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের উদ্যোগে 'স্মরণে জুলাই, ছাত্রদল ও অন্যান' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আহবায়কের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা ৭ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ এমপি, বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা ৭ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ এমপি বলেন, আমার প্রাণের সংগঠন হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। সকল আন্দোলন সংগ্রামে তারা অগ্রণী ভুমিকা পালন করে থাকে। দীর্ঘ সতেরো বছর আন্দোলন সংগ্রাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে গুম ও খুনের শিকার হয়েছে। শাহাদাত বরণ করেছে জবি শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদসহ আরো অনেকে। তাই তাদের অবদান অপরিসীম।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই শুধুমাত্র ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো নয়। জুলাই হলো অদম্য প্রতিরোধের প্রতীক। জুলাই রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি, যারা রক্ত দিয়েছে তাদের রক্তের ঋণ কখনো শোধ করা করা যাবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, জুলাই বিপ্লব ও যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে জবি ছাত্রদল সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল ফ্যাসিবাদী আক্রমণের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিল। জুলাই হয়েছে বিধায় আমরা এখানে কথা বলতে পারছি। জুলাইকে মনে প্রাণে ধারণ করতে হবে। জুলাই শহিদের স্মরণ এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
তিনি আরো বলেন, তারুণ্যের নেতৃত্ব: দেশের তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের সাহস, ঐক্য এবং সংকল্পকে দেশের পটপরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব একক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; এটি ছাত্র-জনতা, কৃষক শ্রমিক ও সম্মিলিত ত্যাগের ফসল। আন্দোলন বা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ বা মূল্যায়নে মাঠে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবদান ও আত্মত্যাগকে কোনোভাবেই দূরে রাখা বা অস্বীকার করা সম্ভব নয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, ছাত্রদল হলো অন্যন্য উদার, তারা সবাইকে গুরুত্ব দেয়। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে আমার দ্বারা যেন দলের কোন ক্ষতি না হয়। সেবক হিসেবে আমাদেরকে কাজ করতে হবে দলের প্রতি অনুগত্য থাকতে হবে তাহলেই আমরা জুলাইকে সঠিক ভাবে ধারণ করতে পারবো।
প্রধান আলোচক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো: রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল একটি আবেগের জায়গা যে কোনো আন্দোলন সংগ্রামে ও দুঃসময় এরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান বারবার সংগঠিত হয় না। তাই জুলাইকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে হবে, জুলাই যুদ্ধে আমাদের প্রায় একশত বিয়াল্লিশ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মী সমর্থক শহিদ হয়েছেন। এই আন্দোলনের প্রায় এক হাজার চারশো জন ছাত্র জনতা শহিদ হয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়ার পিছনে তারা কোন আপোষ করেননি বা কোন পিছু হটেন নি। তাই সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা শিকার করছি। অনেকেই মৃত্যুর শেষ প্রান্ত থেকে ফিরে এসেছেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, তারুণ্যের অহংকার বর্তমান বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন জুলাই পরবর্তী ছাত্র রাজনীতির দুই বছরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অনেক গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। কারণ তারা কোথাও কোন হল দখল করেনি এবং ফ্যাসিস্টদের প্রশ্রয় দেয়নি। পড়াশোনায় বিঘ্নঘটে এমন কোন কাজ ছাত্রদল করেনি।
এছাড়া ও বিশেষ আলোচক হিসেবে নাছির উদ্দীন নাছির, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, সম্মানিত আলোচক মো: আসাদুজ্জামান আসলাম, সাবেক সভাপতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ও সুজন মোল্লা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল বক্তব্য প্রদান করেন ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল-এর সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের সঞ্চালনা জুলাইয়ের ঐতিহাসিক চেতনা, শিক্ষার্থীদের ভূমিকা এবং সমসাময়িক জাতীয় প্রেক্ষাপট নিয়ে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃবৃন্দ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান ও প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ, আহত জুলাই যোদ্ধা ও জবি ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন।
এছাড়াও জবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের দপ্তর প্রধান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃবৃন্দ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান ও প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা কর্মচারী এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এসময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।




