রবিবার (২৬ জুলাই ২০২৬) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির অভিষেক ও সাধারণ সভা-২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। তিনি নবনির্বাচিত কর্মকর্তা সমিতির কমিটির সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নতুন কমিটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমাজের কল্যাণে কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কমিটির সার্বিক কার্যক্রম সফলতা লাভ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় শিক্ষকদের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছরের পথচলায় যে সকল সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা বিরাজমান ছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে নতুন আঙ্গিকে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল, আন্তরিক ও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সমৃদ্ধ ও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালায় বিদ্যমান বিভিন্ন ত্রুটি ও অসংগতি সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম প্রণয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, জবাবদিহিতার ঘাটতি ছিল বলেই জুলাইয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাজমান সমস্যাগুলো অচিরেই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম, মর্যাদা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে সকলকে নির্মোহভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ও অর্থ দপ্তরের উপ-পরিচালক হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কর্মকর্তাদের কাছে প্রত্যাশা অনেক। কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাঁরা যত দক্ষতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও তত বেশি গতিশীল ও কার্যকর হবে। তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও সুন্দর ও কার্যকরভাবে পালন করতে পারবেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়নের বিষয়েও প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে নিয়োগবিধি সংক্রান্ত কোনো জটিলতা বা অসুবিধার সৃষ্টি না হয় এবং সকলের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। এসব বিষয়ে অচিরেই সমাধান হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সার্বিক পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক ও সুসংগঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবদুল হালিম।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, ইনস্টিটিউট, বিভাগ ও দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

