logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে অধিকার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: জবি উপাচার্য

  • Published
  • 27 Jul, 2026
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৬ জুলাই ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শ্রেণিকক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আমাদের ধারণ করতে হবে এবং এর চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একদিনে সৃষ্টি হয়নি; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের বৈষম্য, অধিকারহীনতা ও গণতান্ত্রিক সংকটের ইতিহাস। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীতে একদফার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এটি একটি সার্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
উপাচার্য বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়; এটি ছাত্র-জনতাসহ বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অর্জন। এই আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। শ্রমিক, রিকশাচালক, চা-দোকানি, কাঠমিস্ত্রি, ভিক্ষুক ও শিশুসহ সমাজের নানা শ্রেণির মানুষ এ আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এককভাবে দাবি বা কুক্ষিগত করতে পারে না। প্রতি বছর জুলাই উদযাপনের মাধ্যমে এই সার্বজনীন অর্জন ও চেতনাকে স্মরণ এবং ধারণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই আমাদের শিখিয়েছে প্রত্যেক মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ, নির্ধারিত সময়ে ফলাফল প্রকাশ, সেশনজট নিরসন এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। কোনো শিক্ষার্থীকে অন্যায়ভাবে নিগৃহীত করা, রাজনৈতিক বা দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করা কিংবা তার অধিকার ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শিক্ষা হিসেবে অবৈধ ও অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, কেউ কারও ওপর অবৈধ বা অযাচিত হস্তক্ষেপ করবে না। কারও বাকস্বাধীনতা হরণ করা যাবে না এবং কাউকে অন্যায়ভাবে হুমকি বা হয়রানি করা যাবে না। একই সঙ্গে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় থাকতে হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা উপাচার্য—সবারই নিজ নিজ দায়িত্বের প্রতি দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই উদযাপনের প্রকৃত অর্থ হলো এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ভবিষ্যতে আর কোনো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রয়োজন হবে না এবং কোনো মানুষ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। এ জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল, সচেতন ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, পারস্পরিক আলোচনা, গঠনমূলক সমালোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে একটি উন্নত, মানসম্মত ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জুলাইয়ের শিক্ষা ও চেতনাকে ধারণ করে অধিকার, স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে হবে।
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দা ইসরাত নাজিয়ার সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল আলীম।
সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমদ।
এ সময় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।