logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

জুলাইকে আগামী দিনের পথচলার পাথেয় হিসেবে ধারণ করতে হবে: জবি উপাচার্য

  • Published
  • 28 Jul, 2026
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনায় ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও বিভাগে জুলাই উদযাপন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের আয়োজনে ‘স্মৃতিতে জুলাই, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) বিভাগটির শ্রেণিকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ মিজানুর রহমান। সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, জুলাইকে আমাদের মন ও মনন থেকে ধারণ করতে হবে, যাতে জুলাইয়ের চেতনা কখনো হারিয়ে না যায়। সেই লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম। জুলাইয়ের চেতনাকে আমাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অসামান্য অবদান রয়েছে। এ বিভাগের জুলাই যোদ্ধারা ফ্যাসিবাদের গুলিতে আহত হয়েছেন। জাতির বিকাশ ও অস্তিত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে। জুলাই কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সফলতা নয়; বরং দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের মানুষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সেই দীর্ঘ সময়ের অন্যায়, অনাচার ও অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের ফল হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়।
উপাচার্য আরও বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ না করা, অন্যায়কারীকে সাহস জোগানো এবং অন্যায় আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি থেকেই ফ্যাসিবাদের উদ্ভব ঘটে। রাষ্ট্রের অধিপতি বা শাসক যেই হোন না কেন, তাঁর চারপাশের মানুষের দায়িত্ব হলো অন্যায় ও অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠা। সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা ও প্রতিবাদের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি সেক্টরে এক ধরনের অস্বাভাবিক ও উদ্ভট পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়। ৩৬ দিনের জুলাই আন্দোলন ছিল দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাখ্যান। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো জুলাইয়ের প্রয়োজন না হয়, সে জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, নিজেদের অধিকার আদায়ে শিক্ষার্থীদের আরও উদ্যমী ও সোচ্চার হতে হবে। জুলাইয়ের শিক্ষা ও চেতনাকে আগামী দিনের পথচলার পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। জুলাইয়ের চেতনা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অনেক সময় এক ধরনের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ কাজ করে বলে মনে হয়। আর এই অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণের পরিবেশ থেকেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হতে পারে। তাই সর্বক্ষেত্রে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি চালু করা প্রয়োজন। সমাজ ও রাষ্ট্রে যদি কার্যকর জবাবদিহিতার সংস্কৃতি বিদ্যমান থাকত, তাহলে জুলাইয়ের মতো গণঅভ্যুত্থানের প্রয়োজন হতো না।
অনুষ্ঠানে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহত ও সংগ্রামীদের সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।