logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ‘ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

  • Published
  • 03 Aug, 2026
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও বিভাগে জুলাই উদযাপন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে ‘ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শ্রেণিকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য মহোদয় বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সফলতায় শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক। তবে এটি কোনো একক গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না; বরং মুদি দোকানদার, রিকশাচালক, সবজি বিক্রেতা, শিশুসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই এ গণ-অভ্যুত্থান সফলতা লাভ করে। তাই জুলাইয়ের অর্জনকে কোনোভাবেই বিভক্ত করা যাবে না; এর পটভূমি, কারণ ও শিক্ষা নিয়মিতভাবে অধ্যয়ন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন, বৈষম্য, অধিকারহরণ এবং স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করেছিল। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হওয়া, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহির অভাব এবং নাগরিক অধিকারের সংকোচন দেশের সংকটকে আরও গভীর করেছিল। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য অন্যায় ও দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
উপাচার্য আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখনো বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে আবাসন সংকটসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা অতীতের অবহেলার ফল। এসব সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, অতীতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে কার্যকর বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা না হলে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ‘টিম জগন্নাথ’ ধারণাকে ধারণ করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী—সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।
উপাচার্য বলেন, ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের বৃহত্তর কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম শিক্ষা হলো সম্মিলিত দায়িত্ববোধ, ন্যায় প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দেশ ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। এ মূল্যবোধ ধারণ করেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন কুমার দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া।
সেমিনারে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।