জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও বিভাগে জুলাই উদযাপন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফার্মেসি বিভাগের আয়োজনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬: আমাদের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শ্রেণিকক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে—অন্যায়, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সব মত ও মানুষের অধিকারকে সম্মান করতে হবে। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে গঠনমূলক সমালোচনাকে গ্রহণ করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহনন, অপপ্রচার ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অধিকারসম্মত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপাচার্য আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে আমাদের সবাইকে ‘টিম জগন্নাথ’ হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অতীতের ভুল ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও উন্নত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে হবে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও প্রাপ্তিহীনতার বিষয়গুলো পুনর্মূল্যায়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। বিগত সময়ের প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় যে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা, বৈষম্য ও অধিকারহরণের বিরুদ্ধে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সবার কল্যাণ নিশ্চিত না করে দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই সংকটের অন্যতম মূল কারণ ছিল। তাই ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সবার অধিকার ও কল্যাণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গঠনমূলক সমালোচনার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহনন ও বিভাজনমূলক রাজনীতি পরিহার করতে হবে।
উপাচার্য বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শিক্ষা হলো ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এ শিক্ষা ধারণ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও অধিকারসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সুকুমার বেপারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।
এ সময় ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।



