জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার নিউজ স্ট্যান্ড উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ নিউজ স্ট্যান্ড উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য মহোদয় বলেন, ইনকিলাব নামের পত্রিকাটি নির্দিষ্টভাবে অন্য দশটি পত্রিকার সমতুল্য নয়; পত্রিকাটি দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও তামাদ্দুনিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও আদর্শ হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা এম এ মান্নান মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং দাখিল, আলিম ও ফাজিল স্তরের শিক্ষাকে সমমানের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই বিশেষ একটি সময়ে, যখন দেশের সংবাদমাধ্যম নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন ইনকিলাবের আবির্ভাব ঘটে।
উপাচার্য আরও বলেন, ইসলাম ও সমাজের কল্যাণমূলক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ইনকিলাব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সমাজে ওলি-আউলিয়া ও পীর-মাশায়েখদের দর্শনের চর্চা, ইসলামের প্রকৃত ধারণা এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রচার ও প্রসারের সঙ্গে ইনকিলাবের একটি নিবিড় সংযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী ওলি-আউলিয়াদের মধ্যে শাহজালাল, শাহ মখদুম, শাহ আমানত, খান জাহান আলীসহ বিভিন্ন পীর-মাশায়েখের মাধ্যমে এ দেশে ইসলামের চর্চা ও প্রতিষ্ঠা ঘটেছে। একইভাবে সারসিনা দরবার, ফুলতলী পীরসহ বিভিন্ন ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠান দেশের মানুষের মধ্যে ইসলামের শিক্ষা ও মূল্যবোধ প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন। এই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে বাংলাদেশে ইসলামের বাস্তব দর্শন ও প্রচারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ইনকিলাবকে বিবেচনা করা যায়।
মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রসারের ক্ষেত্রেও ইনকিলাবের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশ জামিয়াতুল মুদাররেসিনের মতো বৃহৎ সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পৃষ্ঠপোষকতায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এর মুখপাত্র হিসেবে ইনকিলাব বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও শিক্ষামূলক অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখে চলেছে। তাই ইনকিলাবকে শুধু একটি সংবাদপত্র হিসেবে না দেখে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যম, দেশের সঠিক পথরেখা নির্মাণ এবং ইসলামী চেতনার চর্চায় নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ও আদর্শকে ধারণ করা, পত্রিকাটি নিয়মিত পাঠ করা এবং এর নির্ধারিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সক্রিয় অঙ্গীকার থাকা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে দৈনিক ইনকিলাবের নির্বাহী সম্পাদক ও পরিচালক নাজিফা বাহাউদ্দিন বলেন, ইনকিলাব কেবল একটি পত্রিকা নয়; এটি একটি আদর্শ ও দীর্ঘ ঐতিহ্যের বাহক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন সময় ও পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা অতিক্রম করে আজকের অবস্থানে এসেছে। এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা যদি ইনকিলাবের লিগ্যাসির সঙ্গে একীভূত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তা বড় ধরনের অর্জনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। তিনি আরও বলেন, আজকের এই নিউজ স্ট্যান্ড উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শুধু পত্রিকা বিতরণ নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইনকিলাবের একটি কার্যকর সংযোগ স্থাপন এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে শিল্প, আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র, ক্রীড়া, সংগীত ও কনটেন্ট নির্মাণসহ নানা ক্ষেত্রে সৃজনশীল শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সুযোগ ও উপযুক্ত প্ল্যাটফর্মের অভাবে দেশের অনেক প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায় না। তাই ইনকিলাব তরুণদের নিজেদের ভাবনা, সৃজনশীলতা ও কণ্ঠ প্রকাশের একটি প্ল্যাটফর্ম দিতে চায়। অদূর ভবিষ্যতে ইনকিলাব তরুণদের জন্য একটি পৃথক পৃষ্ঠা চালু করবে। সেখানে শিক্ষার্থীদের লেখা, কার্টুন, শিল্পকর্ম, বাস্তব অভিজ্ঞতা, ব্যঙ্গধর্মী রচনা ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজ প্রকাশের সুযোগ থাকবে।
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, ইউট্যাব জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ, লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ নঈম আকতার সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার নিউজ স্ট্যান্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। উদ্বোধনের পর থেকে নিউজ স্ট্যান্ডটিতে প্রতিদিন ৫০টি দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা রাখা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিউজ স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত পত্রিকাটি সংগ্রহ করে পাঠের সুযোগ পাবেন।



