logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

জবির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে নবীনবরণ, বিদায় ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

  • Published
  • 03 Aug, 2026
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে নবীনবরণ, বিদায় ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন। তিনি বলেন, উদ্ভিদ মানুষের জীবনধারণের অন্যতম প্রধান উপাদান। অথচ একদিকে আমরা বৃক্ষ নিধনের মাধ্যমে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছি, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সচেতনতামূলক আন্দোলন করছি। বৃক্ষ নিধন অব্যাহত রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন, নতুন সরকার দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছে। এ কর্মসূচিকে সফল করতে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর অবদান রাখতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। কোথায় আমাদের সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা ছিল, তা চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল, তা অতীতে যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনাচার, অধিকারহীনতা ও বৈষম্যের কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। এখন আমাদের সামনে অনেক স্বপ্ন ও প্রত্যাশা রয়েছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সব ধরনের বাধা উপেক্ষা করে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং অন্যের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
উপাচার্য বলেন, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগত। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যেন একটি দিনও অযথা নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভর্তি কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সফলতা অর্জিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সেখানে বিচরণ করতে পারবে—এটি আমাদের সবার প্রত্যাশা। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ যত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে, তত দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই স্বস্তি ও সন্তুষ্টি লাভ করবে।
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী নাহিদা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল আলীম, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই কৃষি বিশেষজ্ঞ ফরিদ উদ্দিন আহমদ এবং বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. খুরশিদ নাহার।
অনুষ্ঠানে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ সময় তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিভাগের স্পোর্টস, কালচারাল ও ডিবেটিং ক্লাবের সেরা পারফর্মারদেরও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয় এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ সময় শিক্ষকরা নবীন শিক্ষার্থীদের শুভকামনা জানান এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।