জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও বিভাগে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) সিএসই বিভাগের শ্রেণিকক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। অনুষ্ঠানটি আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু লায়েকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া এবং জবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আজম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে—এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য এবং এর সুফল আজ সবাই ভোগ করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত তাৎপর্য ও পটভূমি নিয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন। জুলাইয়ের চেতনা জাতীয় পর্যায়ে কতটুকু ধারণ করা হয়েছে, সেটিও মূল্যায়ন করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে সমাজে বৈষম্যহীন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২১ বছরেও শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে বারবার আন্দোলন করেছে। অতীতে যারা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে যথাযথভাবে ধারণ করেননি। এর ফলে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এখন আমাদের নতুন করে চিন্তা করতে হবে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায্য অধিকার আদায় করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণ ও উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জন ও প্রাপ্তির সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম যথাযথভাবে সামনে না এলেও দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সবসময় সম্মুখসারিতে থেকেছেন। অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়সমূহ ভবিষ্যতে বই আকারে প্রকাশ করে সকলের সামনে তুলে ধরা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান বারবার স্মরণ ও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে উদযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আত্মত্যাগকারীদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দিতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও অধিকারকে গভীরভাবে স্মরণ করার পাশাপাশি জুলাইয়ের চেতনাকে অন্তরে ধারণ করে তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি সিএসই বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা বিভাগের পক্ষ থেকে তিনজন জুলাই যোদ্ধাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এ সময় বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।




