জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এলএলএম (প্রফেশনাল) প্রোগ্রামের ২৩তম ব্যাচের নবীন বরণ অনুষ্ঠান শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) বিভাগের নিজস্ব শ্রেণিকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন এলএলএম (প্রফেশনাল) প্রোগ্রামের পরিচালক ড. মুনিরা জাহান সুমি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, আইন ব্যতীত সমাজ পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই। পৃথিবীর প্রতিটি ক্ষেত্র কোনো না কোনোভাবে আইনের মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই যারা আইন বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন, তাদেরকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের জন্য নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বড় শক্তি হচ্ছে এর বিপুল জনশক্তি। এই জনশক্তিকে সুশাসন ও আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে পরিচালিত করা গেলে দেশ আরও দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। তবে আইনের যথাযথ প্রয়োগে কোথায় কোথায় ব্যত্যয় ঘটছে, সে বিষয়ে গভীরভাবে অনুধাবন ও গবেষণা করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উপাচার্য আরও বলেন, বিচার বিভাগ সাধারণ মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল। তাই বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রাখতে ন্যায়, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বিচার বিভাগ ঐকমত্য ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে মানুষের প্রকৃত আশ্রয়স্থল হিসেবে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গভীর অধ্যয়ন, গবেষণা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা অপরিহার্য। অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে জাতিকে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ হওয়া প্রায় ১,৪০০ শহীদের আত্মত্যাগের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন আইন বিভাগের মতো এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাওয়ায় তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে এলএলএম (প্রফেশনাল) প্রোগ্রামের ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




