logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

রসায়ন বিভাগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: পরিবর্তনের পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

  • Published
  • 03 Aug, 2026
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও বিভাগে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রসায়ন বিভাগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: পরিবর্তনের পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
(২ আগস্ট ২০২৬) রসায়ন বিভাগের শ্রেণিকক্ষে আয়োজিত এ সেমিনার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, জুলাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে রুপ না দিয়ে প্রতিষ্ঠানিকভাবে রুপ দিতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার চারশত জন শহিদ হয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের একটা লক্ষ্য উদ্দেশ্য ছিল সেটা হল আমরা একটি পরিবর্তন চেয়েছি। যেমনিভাবে আমরা আমাদের মহান স্বাধীনতা পেয়েছি ৩০ লক্ষ শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। জুলাই যোদ্ধারা তাঁরা তাদের ত্যাগের মাধ্যমে একটা পরিবর্তন চেয়েছিলেন যে আমাদের স্বাধীকারের জন্য আমরা আমাদের অধিকার পাবো, আমাদের উন্নতি এবং উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে। তাই আমরা তাদেরকে সবসময় স্মরণ করব। সবাই মিলে একটা জাতি গঠনের কাজে নিয়োজিত থাকবো।
তিনি বলেন, ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন হয়েছে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী আচরনের মধ্য দিয়ে আমরা দেখতে পাই যে, সকল ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানিক মত প্রকাশে বাধাগ্রস্থ করা হয়েছে। প্রশাসনে গঠনমূলক সমালোচনা থাকবে এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু এখানে সেটা ছিল না। একজন কার্টুনিস্টকে কার্টুন আকার কারনে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। সাংবাদিক সাগর- রুনিকে হত্যা করা হয়েছে ক্ন্তি সে হত্যার রহস্য আজও উন্মোচন করা হয়নি।পদে পদে অধিকার ভূ লন্ঠিত হওয়ার কারনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, একটা রাষ্ট্রে দিনের ভোট যারা রাত্রে করা দায়িত্বে ছিলেন তাদেরকে পুরস্কার দিয়েছেন ফ্যাসিবাদী সরকার। সাধারণ মানুষ হিসেবে যে অধিকার আছে কিন্তু সেটাও তারা বাস্তবায়ন করতে দেয়নি। যার কারনে সাধারণ মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্রদের প্রতি আস্থা রেখেই সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে আন্দোলনে যোগদান করেছে এবং দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করতে পেরেছে। ফ্যাসিবাদ মুক্ত হওয়ার পর পরিবর্তিত নতুন সরকার গঠনের পর একটা বিশেষ মহলকে গুরুত্ব দিয়েছে। যারা স্বাধীনতার ইতিহাস, জাতীয় সঙ্গীত ও দেশপ্রমকে তাঁরা মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। তাঁরা একটা ভিন্ন মতকে গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সবার মতকে গুরুত্ব দিচ্ছে ও সাধারণ জনগণের কাতারে এক হয়ে মিশে যাচ্ছেন এবং পরিবর্তনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষকদের যথাসময়ে ক্লাস এবং পরীক্ষা নিতে হবে, পড়ালেখায় শিক্ষার্থীদের যাতে কোন ব্যাঘাত না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে আপনাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।বিশেষ কোন দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করলে হবে না। অপ্রাপ্তি গুলো নিরসনের জন্য টিম জগন্নাথ স্লোগান কে ধারণ করে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণ ও উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মব কালচারকে কোন ধরনের প্রশ্রয় দিব না। কেউ যদি কোন ধরনের মব কালচার করে থাকে সেটা অভিযোগের ভিত্তিতে আইনের মাধ্যমে আমরা তাদেরকে বিচারের সম্মুখীন করবো। আমাদের মন এবং মগজের পরিবর্তন আনতে হবে যাতে করে আবার জুলাই সংগঠিত না হয়। ন্যায়, ইনসাফ ও কল্যাণমূলক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি রসায়ন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। র‌্যাকিংএ অবস্থান সৃষ্টিকারী হলো রসায়ন বিভাগ। তাই পরিবর্তনের বাংলাদেশে রসায়ন বিভাগ একটি উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
সেমিনারের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: আমিনুল হক, চেয়ারম্যান রসায়ন বিভাগ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলম।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, আহবায়ক, আয়োজক কমিটি, ও প্রবন্ধ্ উপস্থাপন করেন মো: মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর, রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং আলোচক হিসেবে অধ্যাপক ড. শাহ মো: নিস্তার জাহান, চেয়ারম্যান, ফ্লিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগ।
সেমিনারে জুলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উপর অনুষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণ করা হয়। এ সময় বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।