logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

ফিন্যান্স বিভাগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, প্রভাব ও করণীয় বিষয়ক সেমিনার

  • Published
  • 04 Aug, 2026
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসনের উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও বিভাগে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফিন্যান্স বিভাগের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, প্রভাব ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) ফিন্যান্স বিভাগের শ্রেণিকক্ষে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন। ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বায়েজিদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ ওমর ফারুক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, প্রভাব ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র-জনতার একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃত। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য ও অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে যে প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তা একটি বৃহত্তর রূপ লাভ করে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে মানুষের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মেধার যথাযথ স্বীকৃতির দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। এ আন্দোলনে শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে এবং একপর্যায়ে তা গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
উপাচার্য বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন জুলাই-পরবর্তী সময়ে আমাদের করণীয় কী, কীভাবে দেশকে আরও উন্নত ও মর্যাদাশীল অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যায়—সে বিষয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নয়, ব্যক্তিজীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা ও পশ্চাৎপদতা কাটিয়ে একটি আধুনিক, উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে সব ধরনের সমালোচনার ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীরাই আমাদের আগামীর সম্ভাবনার কারিগর। তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি অভিন্ন লক্ষ্য সামনে রেখে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর আমাদের প্রাপ্তি কী এবং ভবিষ্যতে করণীয় কী—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সুযোগ এনে দিয়েছে। এই অর্জনকে কাজে লাগিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য শুধু অতীতের ঘটনাবলি স্মরণ করলেই হবে না; বরং এর শিক্ষা থেকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের পথ নির্ধারণ করতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র ও সমাজের করণীয় বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সেমিনারে ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।