জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও বিভাগে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ত্রিমাত্রিক শিল্প ও নকশা বিভাগের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক পোস্টার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউটিলিটি ভবনের নিচতলায় আয়োজিত এ পোস্টার প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চারুকলা অনুষদের ডিন ও প্রিন্টমেকিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বজলুর রশীদ খান।
এ সময় ত্রিমাত্রিক শিল্প ও নকশা বিভাগের চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন, ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাঃ আলপ্তগীনসহ চারুকলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন এ ধরনের সৃজনশীল ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য ত্রিমাত্রিক শিল্প ও নকশা বিভাগকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, যা কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আন্দোলনের সময় শিল্পীরা তাঁদের সৃজনশীলতা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রতিবাদী চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
উপাচার্য বলেন, প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া পোস্টার ও শিল্পকর্মগুলোতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা, চেতনা ও বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে। এসব শিল্পকর্ম জুলাইয়ের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে শিল্পের ভাষায় সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ ধরনের আয়োজন ত্রিমাত্রিক শিল্প ও নকশা বিভাগের সৃজনশীল কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, চারুকলা অনুষদের কার্যক্রম শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বা পুরান ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এর সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। একটি সৃজনশীল অনুষদ হিসেবে চারুকলা অনুষদ দেশের জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উপাচার্য বলেন, গঠনমূলক পরিকল্পনা ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনার মাধ্যমে পরিবর্তিত বাংলাদেশকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রকৃত সংস্কৃতি, জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ এবং চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চারুকলা অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ভূমিকা পালন করবেন বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রদর্শনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা, চেতনা, আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও মানুষের আকাঙ্ক্ষা শিল্পীদের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে পোস্টারের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। প্রদর্শিত শিল্পকর্মগুলো দর্শনার্থীদের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও চেতনা সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে চারুকলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।



