জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘পেনশন ও অবসর বিধিমালা: চাকুরিজীবী এবং নমিনির প্রাপ্য ও করণীয়’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনের প্রশিক্ষণ সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সেশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পেনশন ও অবসর বিধিমালা সম্পর্কে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা আরও কার্যকরভাবে বৃদ্ধি করতে পারবেন। পেনশন একজন চাকুরিজীবীর কাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে প্রাপ্য পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বুঝে নিতে হলে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সম্পর্কে চাকুরিজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবার সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, একজন চাকুরিজীবীর চাকরিকালীন প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র, নথি ও সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে নিজস্ব ফাইলে সন্নিবেশ করে রাখা হলে অবসর-পরবর্তী সময়ে পেনশন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনেক ধরনের জটিলতা ও ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব। এ বিষয়ে চাকুরিজীবীদের নিজেদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা ও কাঙ্ক্ষিত অর্জনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ২১ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস মুছে ফেলে প্রাপ্তির লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ আমাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঙ্ক্ষিত অর্জনের পথে বিদ্যমান সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য আমাদের মধ্যে ঐক্যের সংস্কৃতি চালু করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, আজকের প্রশিক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেনশন একজন চাকুরিজীবীর অধিকার। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় দেখা যায়, প্রাপ্য পেনশন পাওয়ার জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বিভিন্ন দপ্তরে ও মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, যা অত্যন্ত অমানবিক। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে চাকরিজীবন থেকেই সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন। চাকরিজীবনে কোনো ধরনের অন্যায় বা অনিয়মের শিকার না হওয়া এবং নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সচেতন থাকাই উত্তম। কারণ চাকরিজীবনের কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতির প্রভাব পরবর্তীতে একজন ব্যক্তিকেই ভোগ করতে হতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কর্মশালার রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক নিরাপত্তা অডিট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী ফররুখ আহাম্মদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক (ফান্ড ও বাজেট) খন্দকার হাবিবুর রহমান। তাঁরা প্রশিক্ষণের নির্ধারিত বিষয়সমূহের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং পেনশন ও অবসর-সংক্রান্ত বিধিমালা, চাকুরিজীবী ও নমিনির প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট করণীয় সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রশিক্ষণের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জামির হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর।
উল্লেখ্য, গতকাল শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা দুই ধাপে অংশগ্রহণ করেন। কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, বিধি-বিধান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং অবসরকালীন প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।



