জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্পোরেট গ্যারান্টির বিপরীতে ঋণের আবেদন, ছুটি ব্যবস্থাপনা এবং ডি-নথি কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, সহজ ও ডিজিটাল করার লক্ষ্যে তিনটি সফটওয়্যার ও ডি-নথি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব সফটওয়্যার ও ডি-নথি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সফটওয়্যারগুলোর উদ্বোধন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। এ সময় তিনি সফটওয়্যারগুলোর মডিউল তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও আইসিটি সেলকে ধন্যবাদ জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দী বলেন, আমাদের প্রতিনিয়ত নতুনত্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে হবে, বসে থাকলে হবে না। এগুলোর ব্যবহার করতে করতে আমরা পারদর্শী হয়ে যাব এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আরও উন্নত হবো। ব্যবহারে কোনো সমস্যা হলে শিখে নিতে পারবো। অসাধ্য বলে কোনো কিছুই নেই। মনোনিবেশ করে এসব সিস্টেম কার্যকর করতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনে উদাসীন হওয়ার সুযোগ নেই। সিস্টেমকে আরও উন্নত করে সামনে এগিয়ে যেতে পারলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারবে। প্রযুক্তিনির্ভর এসব উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। তিনি বলেন, নতুন চালু হওয়া সফটওয়্যারগুলোর সঠিক ও কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ সর্বোচ্চভাবে রক্ষা করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে ঋণসংক্রান্ত কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং ছুটি ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান জটিলতা দূর করা যায়, সে ক্ষেত্রে সফটওয়্যারগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্ব যখন দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ডি-নথিসহ উদ্বোধন করা সফটওয়্যারগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও কার্যকর করতে অনন্য ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্পোরেট গ্যারান্টির বিপরীতে ঋণের আবেদনসংক্রান্ত সফটওয়্যারের বিভিন্ন দিক প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নির্ধারিত মডিউলে জেআরপি (JrP)-তে লগইন করে কীভাবে আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেন আইসিটি সেলের সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার মোঃ শাহাদাত হোসেন।
এরপর ছুটিসংক্রান্ত সফটওয়্যারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ব্যবহারের পদ্ধতি প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেন আইসিটি সেলের সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার মোঃ হাফিজ উল্লাহ। তিনি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ছুটির আবেদন, ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম কীভাবে সম্পন্ন করা যাবে, সে বিষয়ে উপস্থিতদের ধারণা দেন।
অনুষ্ঠানে ডি-নথি কার্যক্রমের ব্যবহার ও বিভিন্ন দিক প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি কন্ট্রোলার আব্দুল হালিম। তারা ডি-নথির মাধ্যমে প্রশাসনিক নথি ব্যবস্থাপনা, দাপ্তরিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথি আদান-প্রদানের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
প্রদর্শিত সফটওয়্যার ও ডি-নথি কার্যক্রম সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ উপস্থিত শিক্ষকরা তাদের মতামত ও বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন। পরে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সফটওয়্যার ব্যবহারের বিভিন্ন বিষয় পরিষ্কার করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





