জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বোর্ড অব এডভান্সড স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ’-এর ১৫তম সভা সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, প্রচলিত ক্যাম্পাসভিত্তিক আয়োজনের বাইরে গিয়ে এবারই প্রথম ভিন্ন আঙ্গিকে বোর্ড অব এডভান্সড স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ-এর সভা আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মীদের আরও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করবে। তিনি এ আয়োজনের সহযোগিতার জন্য বিআইএম কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সুন্দর, কার্যকর ও পরিকল্পিতভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে বিআইএম-এর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, জ্ঞান সৃষ্টি এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য গবেষণার পরিধি ও মান আরও বৃদ্ধি করতে হবে। এ লক্ষ্যে গবেষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।
সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদভুক্ত বিভাগসমূহের ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পিএইচডি ও এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তিচ্ছু গবেষকদের আবেদন যাচাই-বাছাই, মনোনয়ন, মতামত, সুপারিশ ও অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। সভায় মোট ৫০ জন পিএইচডি এবং ৮৬ জন এমফিল ভর্তিচ্ছু গবেষকের আবেদন পর্যালোচনা করা হয়। অর্থাৎ, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে মোট ১৩৬ জন ভর্তিচ্ছু গবেষকের আবেদন সভায় উপস্থাপন করা হয়।
অনুষদভিত্তিক আবেদনের মধ্যে কলা অনুষদের পিএইচডিতে ৯ জন এবং এমফিলে ৩১ জন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের পিএইচডিতে ১৪ জন এবং এমফিলে ১০ জন, বিজ্ঞান অনুষদের পিএইচডিতে ১২ জন এবং এমফিলে ২০ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পিএইচডিতে ২ জন এবং এমফিলে ১১ জন, আইন অনুষদের পিএইচডিতে ৪ জন এবং এমফিলে ২ জন এবং লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের পিএইচডিতে ৬ জন এবং এমফিলে ১২ জন ভর্তিচ্ছু গবেষকের আবেদন রয়েছে। এছাড়া চারুকলা অনুষদের পিএইচডি প্রোগ্রামে ৩ জন ভর্তিচ্ছু গবেষকের আবেদন সভায় উপস্থাপন করা হয়।
সভায় বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের ভর্তিচ্ছু গবেষকদের গবেষণার বিষয় ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। এ সময় গবেষকদের উপস্থাপিত গবেষণার শিরোনাম সংশোধন, গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ও কো-তত্ত্বাবধায়ক পরিবর্তনসহ গবেষণা কার্যক্রমসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনার পর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় মতামত, সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, গবেষণা, ছাত্রকল্যাণ, পিআরআইপি ও আইসিটি সেলের পরিচালকবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপকবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন হলের প্রভোস্টবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট গবেষকদের তত্ত্বাবধায়কবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সভায় দুইজন বিশেষজ্ঞ বহিঃসদস্য এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মোঃ সলিম উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
সভাটি পরিচালনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন।



