জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফার্মেসি বিভাগের ১৬ ও ১৭তম ব্যাচের নবীন বরণ এবং ১১তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের শুভকামনা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল আলীম।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের সচিব মোঃ ফজলুর রহমান, ইউনিমেড ইউনিহেল্থ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ শামিম আলম খান, অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির পরিচালক মুহাম্মদ জাহিদ আল বেরুনী এবং সিনোভিয়া ফার্মা পিএলসির পরিচালক রেনেসা আহমেদ।
ফার্মেসি বিভাগকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বিকশিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে ফার্মেসি বিভাগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ফার্মেসি এমন একটি বিষয়, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও মানবস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষের জীবন রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ এবং সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফার্মেসি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাই এই বিভাগকে শুধু একটি একাডেমিক বিভাগ হিসেবে নয়, বরং মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য’—এই চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একজন মানুষ যখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত হন, তখন তাঁর জ্ঞান, মেধা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে সমাজের মানুষের জন্য অবদান রাখার দায়িত্বও তৈরি হয়। শিক্ষাজীবন শেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
উপাচার্য বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর, আধুনিক ও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফার্মেসি বিভাগের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবাকে কীভাবে আরও উন্নত ও সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা ও আন্তরিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, অচিরেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহৎ পরিসরে জব ফেয়ার আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সামনে নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। আমরা আশা করি, এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তাদের যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করবে। উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—তারা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে অভ্যস্ত। জীবনসংগ্রামে আপসহীন যোদ্ধা হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার মাধ্যমে সফলতার শীর্ষে পৌঁছাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তারা অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার সর্বোত্তম প্রয়োগের মাধ্যমে দেশ ও জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন ফার্মেসি বিভাগকে ‘জীবন রক্ষাকারী বিভাগ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে, যেখানে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ভালো উপাদানগুলো বিদ্যমান থাকবে। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা ন্যায়ভিত্তিক সমাজের কথা বলি এবং এমন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করি। কিন্তু কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে উপযুক্ত ক্ষেত্র। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা নিয়ে সমাজে প্রবেশ করে। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ট্রেজারার বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা শূন্য থেকে তাদের যাত্রা শুরু করে এবং এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ পায়। সফল হতে হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন, আত্মনিয়ন্ত্রণ, মনোযোগ ও সঠিক পরিকল্পনা। সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীই জীবনে সফল হতে পারবে। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর কর্মজীবনে প্রবেশের পথে তাদের সামনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা আসবে। এসব প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে সফল জীবন গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সুকুমার বেপারী। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ফার্মেসি বিভাগের সংস্কারকৃত ও আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ল্যাবরেটরির উদ্বোধন করা হয়। আধুনিকায়িত এ ল্যাব বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সবশেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।




