logo

Copyright ©2024 Jagannath University. All Rights Reserved

News

জবিতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

  • Published
  • 14 Sep, 2026
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদ্‌যাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আয়োজনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ), এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ), এমপি বলেন, “সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে আল্লাহ তাআলা প্রেরণ করেছেন। আমরা সৌভাগ্যবান যে আমরা তাঁর উম্মত।” তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-এর জীবনের প্রতিটি দিক মানবজীবনের জন্য উত্তম আদর্শ। তাঁর সীরাত অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করতে পারলে ইহকাল ও পরকালে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, মানুষের সব কর্ম ও চলার পথে আল্লাহ তাআলার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে এবং পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে সঠিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করা সম্ভব।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমতার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমতা প্রতিষ্ঠায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন যুগান্তকারী সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। ধর্মীয় নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে মাসিক সম্মানি ও কল্যাণ ভাতা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা আদর্শ জীবনচরিত হলো মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনচরিত। তাঁর জীবনাদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় আদর্শ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এ দেশে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঈদে মিলাদুন্নবী বা সিরাতুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ সম্পর্কে জানা এবং তা বাস্তব জীবনে অনুসরণ করা।
উপাচার্য বলেন, মুমিনের অন্তরে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর জীবনাদর্শের চেতনা জাগ্রত রাখতে হবে। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের আলোকে তিনি ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের তাৎপর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহানবী (সা.) সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য ‘রাহমাতাল্লিল আলামিন’। তাই তাঁকে ভালোবাসার পাশাপাশি তাঁর আদর্শকে অনুসরণ ও অনুকরণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে শুধু আলোচনা করলেই হবে না; তাঁর আদর্শকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। মুসলিম সমাজে মহানবী (সা.)-এর জীবনচরিতের ব্যাপক প্রচার এবং তাঁর আদর্শ সংরক্ষণ ও অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মানবজীবনের জন্য অনুকরণীয়। কর্মজীবনের ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় শুধু ইহকালীন সফলতার প্রতিযোগিতায় নিজেদের নিয়োজিত রাখি। তবে ইহকালীন জীবনের পাশাপাশি পরকালীন জীবনের সফলতার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের আলোচনা থেকে যে শিক্ষা আমরা অর্জন করি, তা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মসজিদ কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদ্‌যাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেরাত, হামদ, নাতে রাসুল ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে এসব প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
কেরাত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রহমতুল্লাহ মাক্কি। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মো. রাকিবুল করিম এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আশিকুর রহমান আকাশ।
হামদ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মোরশেদ হাসান মেশকাত। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মোহাম্মদ আলী এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মো. সিয়াম হোসেন।
নাতে রাসুল প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মোরশেদ হাসান মেশকাত। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ইতিহাস বিভাগের তাহেরা মাহমুদ তোহা এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মোহাম্মদ আলী।
রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নাজমুন আক্তার। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন একই বিভাগের আছমাতুল্লাহ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন একই বিভাগের মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাননীয় মন্ত্রীর পক্ষ থেকে রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারীকে ৫০ হাজার টাকা এবং বিজয়ী আরও ১১ জনকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।