জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষক, জকসু, বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা, সাংবাদিক প্রতিনিধি ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং সভাটি পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিভাগের শিক্ষার্থী কর্তৃক খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সকলকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহাবস্থান, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা ও বিবৃতি প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টি অধিকতর সন্তোষজনকভাবে সমাধান হয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রক্টর কর্তৃক জারীকৃত পত্রের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে মত প্রকাশ করেন যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা সকলের দায়িত্ব। যে বিষয়টি উপাচার্য মহোদয়ের সভাপতিত্বে ইতোপূর্বে সংশ্লিষ্ট সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসিত হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে কোনো ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি না করার জন্য তাঁরা আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করা দরকার। কোনো মহল বা ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আজম খান, সাবেক প্রক্টর ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক, পূজা উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন কুমার দাস, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সালেহ উদ্দিন এবং সহকারী প্রক্টর জনাব মোঃ ফেরদাউস হোসেন শিক্ষার্থীদের আগামীকালের কর্মসূচির বিষয়ে সমন্বয় এবং সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে তাদের অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে অংশগ্রহণ করবেন।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আজম খান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, বহিরাঙ্গন কার্যক্রমের পরিচালক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আনওয়ারুস সালাম, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খ্রীষ্টিন রিচার্ডসন, নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আঞ্জুমান আরা, ছাত্র হল ১-এর প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোঃ ওমর ফারুক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় পূজা উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন কুমার দাস উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক প্রতিনিধি এবং কর্মচারী ও সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।


