জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ, বৃত্তি, বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে সহায়তা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকিং সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রাইম ব্যাংক পিএলসির সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের উপস্থিতিতে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং প্রাইম ব্যাংক পিএলসির পক্ষে ব্যাংকটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ সাজ্জাদ হায়দার চৌধুরী এতে স্বাক্ষর করেন।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, প্রাইম ব্যাংক প্রতিবছর ১০ জন শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশিপের সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের আওতায় যোগ্য শিক্ষার্থীদের বৃত্তি বা উপবৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ নিতে পারবে। এ ছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ওভারসিজ এডুকেশন সাপোর্ট’ এবং ফ্রিল্যান্সারদের আন্তর্জাতিক আয় গ্রহণে ‘ফ্রিল্যান্সার অ্যাকাউন্ট’ সুবিধা দেওয়া হবে।
চুক্তির আওতায় শিক্ষার্থীরা ব্যাংকের শাখা, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, কিউআর কোড ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সেমিস্টার ফিসহ বিভিন্ন ফি পরিশোধ করতে পারবেন। পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সঞ্চয়ী হিসাব, বিমা, ঋণ, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, বর্তমানে শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, জব ফেয়ার, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রমের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান সৃষ্টি হয়, আর ব্যাংকিং ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তরুণদের উন্নয়নে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংক ও হিসাবধারীর মধ্যকার লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আর্থিক দায়বদ্ধতা থাকবে না।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাঃ আলী নূর, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আরজুমন্দ আরা বানু, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শাওলী মাহবুব, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজ আহমেদ, কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম, ডেপুটি রেজিস্ট্রার (আইন) রঞ্জন কুমার দাসসহ প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হেড অব লায়াবিলিটি অ্যান্ড উইমেন শাইলা আবেদীন, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড স্কুল ব্যাংকিং এম এম মাহবুব হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



